শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নিখোঁজের ১০ দিন পর এক নারী ও তার শিশু কন্যার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন জাহানারা বেগম (৩০) ও তার ৪ বছরের কন্যা সামিয়া আক্তার। তারা গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের চর কর্নেশনা এলাকার আমজাদ শেখের স্ত্রী ও সন্তান।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল ৪টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের বকারটিলা গ্রামের সীমান্তবর্তী ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এখলাস মাতুব্বরের কলাবাগান থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কলাবাগানের মালিক এখলাস মাতুব্বর বাগান পরিচর্যা করতে গিয়ে মাটির উপরে একটি মরদেহের পা বের হয়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফরিদপুর সদর থানা-পুলিশ ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, মরদেহ দুটি ২/৩ দিন আগে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল।
নিহত জাহানারা বেগমের স্বামী আমজাদ শেখ জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। সেখানে তার স্ত্রী এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের জেরে জড়িয়ে পড়েন বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে সেখানে সালিশও হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, চলতি মে মাসের ৪ তারিখ তারা গ্রামের বাড়িতে আসেন এক পারিবারিক দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। ওই দিন বিকেল থেকেই স্ত্রী ও কন্যা নিখোঁজ হন। পরে খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে ৬ মে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
পরবর্তীতে ফেসবুকে মরদেহ উদ্ধারের খবর দেখে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি স্ত্রী ও কন্যাকে শনাক্ত করেন বলে জানান।
এদিকে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
উজানচর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। আমরা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধারের স্থান ফরিদপুর জেলার সীমানার মধ্যে হওয়ায় ফরিদপুর জেলা পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তবে রাজবাড়ী পুলিশও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই আলমগীর হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

