ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ১২ বছরের এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় ইমাম আলী হোসেনকে (৫৯) সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে ) বিকেলে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আলী হোসেন সালথা উপজেলার বড় কামইদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কোরআনের হাফেজ এবং নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের একটি গ্রামের মসজিদে ইমামতি করতেন। পাশাপাশি মসজিদ সংলগ্ন টিনের ঘরে মুদি দোকান চালাতেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি সালথা উপজেলার বাগেুনূরী মদিনা কওমি মাদ্রাসার হেফজখানার ছাত্র। ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে বেড়াতে আসে। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশে আলী হোসেনের দোকানে যায়। এ সময় কৌশলে তাকে দোকানের পাশের মসজিদে ডেকে নিয়ে যান আলী হোসেন এবং বলাৎকারের চেষ্টা করেন।
শিশুটি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ আলী হোসেনকে একমাত্র অভিযুক্ত করে ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) গোলাম রব্বানী বলেন, “এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। শিশুদের নিরাপত্তা ও সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

