Nabadhara
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৪ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাজীপুরে তুরাগ তীরের সড়ক ধস: তদন্তে ভূ-প্রযুক্তিগত ও নকশাগত ত্রুটি শনাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
মে ১৪, ২০২৬ ৬:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের তুরাগ নদী তীরবর্তী ধনঞ্জয়খালী এলাকায় নির্মাণাধীন সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ার ঘটনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, এ দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল ভূ-প্রযুক্তিগত ও নকশাগত ত্রুটি। তদন্তে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, “গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১-৫ নম্বর জোনের অভ্যন্তরীণ রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ” প্রকল্পের আওতায় কাশিমপুর নামাবাজার থেকে ধনঞ্জয়খালী পর্যন্ত নদীর সমান্তরালে নির্মাণাধীন প্রায় ১ হাজার ১৫০ মিটার সড়কের একটি অংশ গত ফেব্রুয়ারিতে ধসে পড়ে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, নদীর বাঁক, নিচের নরম কাদামাটি, দীর্ঘদিনের ড্রেজিং, পানির ঘূর্ণায়ন, পাইলের মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং নদীতীরের জটিল ভূ-প্রকৃতি মিলেই ধসের ঘটনা ঘটেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধসে পড়া অংশে “Classic Limit State Geotechnical Failure” সংঘটিত হয়েছে এবং এটি মূলত “Design Failure” হিসেবে প্রতীয়মান হয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাস্তার ভরাট মাটি বা রিটেইনিং ওয়ালের গুণগত মানের ঘাটতির কারণে ধস হয়েছে—এমন সম্ভাবনা কম। বরং প্রয়োজনীয় ভূ-প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, নদীর হাইড্রোলজি, মাটি পরীক্ষা এবং ডিজাইন রিভিউ যথাযথভাবে না হওয়াই বড় কারণ।

বহুল আলোচিত দুই প্রকৌশলী—তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ.কে.এম হারুনুর রশীদ ও নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম শামছুর রহমান মাহমুদের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা পূর্ব অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে এ দুর্ঘটনার দায় সরাসরি তাদের ওপর বর্তায় না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রকল্পটির মূল নকশা একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিল। পরবর্তীতে নদীর ভেতরে প্রায় ৫ মিটার স্থান পরিবর্তন করে কাজ করার অনুমোদন দেওয়া হলেও, সে অনুযায়ী নদীর প্রবাহ, মাটির ধরন, পাইলের সক্ষমতা ও হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল প্রভাব পুনর্মূল্যায়ন করা হয়নি। তদন্ত কমিটির মতে, যথাযথ বিশ্লেষণ করা হলে এ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত।

তদন্ত কমিটি আরও জানিয়েছে, প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সালের মে মাসে শেষ হয়ে যাওয়ার পর যেসব কাজ হয়েছে, তার কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি। ফলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি।

এ ঘটনায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসানের ভূমিকাও আলোচনায় আসে। তবে নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তিনি শৃঙ্খলামূলক বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করেন এবং পরে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পুনর্বহালের অফিস আদেশ জারি করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনা দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তদন্ত প্রতিবেদনে জাতীয় পর্যায়ে ভূ-প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও ডিজাইন কোড প্রণয়ন, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক নির্মাণ পদ্ধতি এবং পেশাদার প্রকৌশলীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোনো দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ব্যক্তিকে দায়ী না করে পূর্ণাঙ্গ কারিগরি তদন্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই উচিত।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।