শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
সুন্দরবনে দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ডের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাহিনীর সক্রিয় তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়াখালী খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কোস্টগার্ড জানায়, দস্যুদমনে পরিচালিত ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর অংশ হিসেবে কোস্টগার্ড মোংলা বেইস ও কোকিলমনি স্টেশনের সদস্যরা যৌথ অভিযান চালান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা চানমিয়াখালী খাল এলাকায় অবস্থান করছে। পরে সেখানে অভিযান চালাতে গেলে বনদস্যুরা কোস্টগার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির একপর্যায়ে দস্যুরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মো. মেহেদী হাসান (২৫), মো. রমজান শরীফ (১৯) এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মো. এনায়েত (২৫)।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে তিনটি একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড গুলি ও দুটি ওয়াকি-টকি উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গত বুধবার (১৩ মে) বন বিভাগের সঙ্গে একই বাহিনীর আরেকটি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ওই সময় দস্যুদের একটি ট্রলার থেকে শেকলে বাঁধা চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে আটক দস্যুদের অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোস্টগার্ড বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামিনুল হক বলেন, “আটক আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার সকালে তাদের বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হবে।”

