কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিচরণ লস্কর আমেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষ ভাড়া দিয়ে ধান ও ভুট্টা সংরক্ষণের গুদাম হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষা দপ্তরের নজরদারি ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষগুলো শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবর্তে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শৃঙ্খলাও নষ্ট হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ গুটিয়ে রেখে এক কক্ষে ধান এবং অন্য কক্ষে ভুট্টা সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠে আবাদি ফসল শুকাতে দেখা যায়।
জানা গেছে, বিদ্যালয়টির সাবেক সভাপতি প্রভাব ও ক্ষমতার দাপটে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ নিজের কাজে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ না থাকা, ওয়াশরুম অপরিচ্ছন্ন, টিউবওয়েল ও ফ্যান নষ্ট এবং শিক্ষকদের কক্ষ অগোছালো থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি ও দায়িত্বহীনতার কারণে গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
একজন অভিভাবক বলেন, “সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করছে। অথচ কিছু মানুষের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. শাহানা বেগম বলেন, “ওই শ্রেণিকক্ষের চাবি আমার কাছে থাকে না। কে ধান-ভুট্টা রেখেছে, আমি জানি না। স্থানীয় লোকজন এসব করছে। এটা একটি সরকারি স্কুল, কিন্তু তারা মানে না। আর ল্যাপটপের সাউন্ড সমস্যা হওয়ায় সেটি বাসায় রাখা হয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোছা. আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, “শ্রেণিকক্ষে কখনোই ধান-ভুট্টা রাখা যাবে না। এটি বেআইনি। ল্যাপটপ নষ্ট হলে অফিসে জমা দিতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্কুল পরিদর্শন করা হয়। অভিযোগগুলো তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে এলাকার সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে শিক্ষা দপ্তরের কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

