লামা-আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদ মদক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর প্রথমবারের মতো এ অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ পৌঁছানোয় স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে ব্যাপক আনন্দ ও স্বস্তি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনস্থ ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের বাস্তবায়নাধীন থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় দুর্গম মদক এলাকাকে সড়ক যোগাযোগের আওতায় আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এটিকে প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বুধবার (১৯ মে) সকালে ৭০ সীমান্ত পিলার হয়ে বড় মদক এলাকায় গাড়িযোগে পৌঁছে সড়কটির উদ্বোধন করেন ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম।
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত মদক এলাকায় প্রায় ৪৫০টিরও বেশি পরিবারের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে সড়কপথে যাতায়াতের কোনো সুযোগ ছিল না। থানচি থেকে নৌপথই ছিল একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা, যা ছিল অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নতুন সড়ক চালু হওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা কার্যক্রম, কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে এই সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
মদক এলাকার পাড়া কারবারি সাচিং ফ্রু জেরী বলেন, “আগে অসুস্থ রোগী নিয়ে থানচি যেতে অনেক কষ্ট হতো। বর্ষাকালে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। এখন সড়ক হওয়ায় আমরা অনেক উপকৃত হবো।”
তিনি আরও বলেন, “বড় মদকের ছেলেরা কখনও মাঠের অভাবে ফুটবল খেলতে পারেনি। সেনাবাহিনীর ১৭ ইসিবি একটি বড় মাঠ তৈরি করে ছেলেদের খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।”
মদক এলাকার শিক্ষার্থী লিকং মার্মা বলেন, “স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনীর কল্যাণে বড় মদকে রাস্তা তৈরি হওয়ায় মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের কষ্ট লাঘব হবে। চিকিৎসা, শিক্ষা ও সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনধারায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।”
সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করতে অভিযাত্রিক-১৭ এর উদ্যোগে এলাকায় একটি ফুটবল মাঠও নির্মাণ করা হয়েছে। পাহাড়ি পরিবেশের মাঝে এই উদ্যোগ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পরিদর্শনকালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পাহাড়ি পরিবেশে আয়োজিত ফুটবল খেলা উপভোগ করেন। এছাড়া থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন তিনি। উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের-আল-হাসান বলেন, “দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

