কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধি
খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের শিমলারআইট গ্রামে চলাচলের পথ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষে গুরুতর আহত এছার আলী সরদার (৫৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এ সময় হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে বক্তারা আব্দুল হালিম সরদারকে হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত দাবি করে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তারা। কর্মসূচিতে কয়েকশ নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা মো. মজিবুর রহমান, হাফেজ মো. দিদারুল ইসলাম, হাফেজ মো. ইব্রাহিম খলিলসহ আরও কয়েকজন বক্তব্য দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলাচলের একটি পথের জমি নিয়ে শামছুর সরদার ও তার ছেলে আব্দুল হালিম সরদারের সঙ্গে এছার আলী সরদার ও তার পক্ষের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই জমিতে গত ৩১ মে উভয় পক্ষ অবস্থান নিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে এছার আলী সরদারসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত এছার আলী সরদারকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৪ জুন সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষ কয়রা থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষ মামলা করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এছার আলী সরদার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় মামলায় হত্যার ধারা সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

