Nabadhara
ঢাকাবুধবার , ১০ জুন ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মৌসুম শুরুর আগেই যশোরে ডেঙ্গুর পদধ্বনি, বাড়ছে উদ্বেগ

যশোর প্রতিনিধি
জুন ১০, ২০২৬ ২:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যশোর প্রতিনিধি

বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই যশোরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই জেলায় ৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, বর্ষা শুরু হলে সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে যশোরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৫৭৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের। আর গত সাত বছরে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৫৩২ জনে। ডেঙ্গুর উচ্চ সংক্রমণের কারণে একাধিকবার যশোর সদর ও অভয়নগর উপজেলাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডেঙ্গুর প্রকোপ সাধারণত জুন থেকে বাড়তে শুরু করে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। গত বছর জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছিল ৪৬ জন। কিন্তু বর্ষা শুরুর পর জুনে ৪৭ জন, জুলাইয়ে ১৬৪, আগস্টে ১৭৮, সেপ্টেম্বরে ২০৯, অক্টোবরে ৩৩২ এবং নভেম্বরে ৩২২ জন আক্রান্ত হন। শুধু জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২০৫।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। বর্ষার শুরুতে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার লার্ভা দ্রুত জন্ম নেয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তাই আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।

গত সাত বছরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে যশোরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ৩ হাজার ৭৪৬ জন। ২০২০ সালে তা কমে ৬৮ জনে নেমে এলেও ২০২১ সালে ছিল ১৪৫ জন এবং ২০২২ সালে ৮৮৮ জন। ২০২৩ সালে জেলার ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৯৮৩ জন আক্রান্ত হন এবং মারা যান ১৯ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ১ হাজার ৩৪২ জন, মৃত্যু হয় ছয়জনের। ২০২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৬০, তবে সে বছর কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের সাবেক আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে আবহাওয়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বৃষ্টিপাত ও বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুত হয়। বিশেষ করে থেমে থেমে বৃষ্টি হলে বিভিন্ন স্থানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে, যা মশার প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।

এদিকে অভয়নগর উপজেলায় ইতোমধ্যে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত দুইজন ডেঙ্গু রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিলেন।

অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিব বলেন, অতীতে ডেঙ্গুর জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় শুরু থেকেই সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, ডেঙ্গু মৌসুমকে সামনে রেখে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। রোগীর চাপ বাড়লে বিশেষ ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু এবং অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করা হবে।

জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল বলেন, চলতি বছর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। জেলার সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, ফ্রিজের ট্রে, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা বা অব্যবহৃত পাত্রে পানি জমতে না দেওয়া এবং জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।