গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতের দাবিতে বরিশালের গৌরনদীতে প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (২৬ জুন) জুমার নামাজের পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভূরঘাটা থেকে খাঞ্জাপুর পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে কর্মসূচির শেষ দিকে বিক্ষোভকারীরা ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কে বসে ও শুয়ে অবরোধ করলে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের আশ্বাসের পর বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পরে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বরাবর গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীমের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ না হয়” এবং “আমরা আর কোনো মায়ের কোল খালি হতে দিতে চাই না।” তারা অভিযোগ করেন, সড়ক ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা ও বেপরোয়া যান চলাচলের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এ মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
কর্মসূচি থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা মহাসড়ক দ্রুত ৬ লেনে উন্নীত করা।
যানবাহনের অতিরিক্ত ও বেপরোয়া গতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধ করা।
মাদকাসক্ত চালকদের শনাক্ত করে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
ফিটনেসবিহীন, অযোগ্য ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের সড়কে চলাচল বন্ধ করা।
খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার। বক্তব্য রাখেন এনাম তালুকদার, জুয়েল হাওলাদার, মুফতি আমিনুল ইসলাম, আশরাফুল আলম ছোটন, ফেরদৌস হাওলাদার, আলী আজগর মোল্লা, লুৎফর রহমান মুন্সী, মো. আতিক মৃধা, মো. মনিরুজ্জামান, রেজাউল করিম, মেহেদী হাসান নোমানসহ স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, জনস্বার্থে উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

