Nabadhara
ঢাকারবিবার , ২৮ জুন ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসকের অভাবে এক মাস ধরে বন্ধ ভেদরগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের সিজার সেবা

Link Copied!

শাহীন আহমেদ,ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসকের অভাবে প্রায় এক মাস ধরে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। এতে উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার তিন লক্ষাধিক মানুষ, বিশেষ করে প্রসূতি মায়েরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সরকারি হাসপাতালে সিজার সেবা না পেয়ে অনেককে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুটি থানা নিয়ে গঠিত ভেদরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩ লাখ ৪ হাজার মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১৯৭২ সালে ৩১ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ২০১১ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। বর্তমানে প্রতিদিন জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ মিলিয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী এখানে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি সিজারিয়ান অপারেশন এবং বছরে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০টি সিজার সম্পন্ন হতো। কিন্তু হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম খান গত ১৭ মে মাদারীপুরে বদলি হওয়ার পর থেকেই সিজারিয়ান কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অপারেশন থিয়েটার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক প্রসূতি ভর্তি হওয়ার আগেই সিজারের সুবিধা আছে কি না জানতে চাইছেন। সেবা না থাকায় গত এক মাসে অন্তত ২৫ জন প্রসূতিকে ফিরে যেতে হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

উপজেলার মহিষার গ্রামের বাসিন্দা সালমা বেগম সম্প্রতি একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন। তার স্বামী রাকিব মিয়া একজন ভ্যানচালক।

রাকিবের বোন সাথী আক্তার বলেন, “উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক নেই। বাধ্য হয়ে ক্লিনিকে সিজার করাতে হয়েছে। ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সেই টাকা জোগাড় করতে আমার ভাইয়ের ভ্যান পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম হাওলাদার বলেন, “জরুরি প্রসূতি সেবা দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। এ সেবা বন্ধ থাকায় শুধু অতিরিক্ত খরচই নয়, অনেক সময় প্রসূতি মায়েদের জীবনও ঝুঁকিতে পড়ছে।”

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রসূতি আছিয়া বেগম বলেন, “আল্লাহর রহমতে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে যদি সিজারের প্রয়োজন হতো, তাহলে বড় বিপদে পড়তে হতো।”

রোগীর স্বজন কুলসুমা বেগম বলেন, “আগের সন্তান এই হাসপাতালেই হয়েছিল। এবার এসে শুনলাম সিজার হয় না। গরিব মানুষের জন্য এটা বড় কষ্টের।”

হাসপাতালের সেবিকা সাদিয়া খাতুন ও রহিমা বেগম বলেন, “বর্তমানে রোগীরা ভর্তি হওয়ার আগে সিজারের ব্যবস্থা আছে কি না জানতে চান। ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই বেসরকারি ক্লিনিকে চলে যাচ্ছেন। অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক নিয়োগ হলে আবার পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।”

ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, “মাদারীপুরে নতুন আইসিইউ সেবা চালু হওয়ায় আমাদের অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসককে সেখানে বদলি করা হয়েছে। নতুন চিকিৎসক পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত একজন অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে এবং সিজারিয়ান অপারেশন পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।” তবে কবে নাগাদ নতুন চিকিৎসক যোগ দেবেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।