নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ নিতে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে ৩য় শ্রেণির এক মাদরাসা শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলার মহাদিঘী গ্রামের একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আতিকুর রহমান সুজাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় স্থানীয় এলাকাবাসী এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত আতিকুর রহমান সুজা মহাদিঘী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি আত্রাই থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ওই ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী মা-বাবার সাথে ঢাকায় থাকতো এবং সেখানকার একটি মাদরাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো। গত ঈদে তার মা-বাবা গ্রামের বাড়িতে এসে তাকে ও তার ছোট ভাইকে দাদা-দাদির কাছে রেখে যান।
গত মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ওই শিক্ষার্থী তার ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে স্থানীয় মহাদিঘী কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ নিতে যায়। ওই সময় ক্লিনিকে দায়িত্বরত সিএইচসিপি আতিকুর রহমান সুজা কৌশলে ভুক্তভোগীর ছোট ভাইকে কক্ষের বাইরে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। তবে ভুক্তভোগী শিশুটি বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আত্রাই থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পার্শ্ববর্তী রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া গ্রাম থেকে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান সুজাকে আটক করে।
আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,”অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তৎপরতার সাথে অভিযান চালিয়ে আসামিকে আটক করেছে। এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে আটককৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।”

