মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার একটি এতিমখানায় হুসাইন (৮) নামে এক আবাসিক শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) সকালে তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত হুসাইন গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের আযান গ্রামের বিপ্লব হোসেনের ছেলে। এতিমখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল।
এতিমখানার সুপারিনটেনডেন্ট মিজানুর রহমান জানান, রোববার সকাল ৮টার দিকে এতিমখানার শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমিতে আগাছা পরিষ্কারের কাজে ব্যস্ত ছিল। এ সময় হুসাইন সিঁড়ির ওপর বসে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর শাহরিয়ার নামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী কক্ষে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। তার শরীরের পাশে রক্তও দেখতে পেয়ে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
পরে হুসাইনকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান নয়ন বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিক মোর্শেদ চৌধুরী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, পরিচ্ছন্নতার কাজ চলাকালে শিশুটি একা সিঁড়িতে ছিল এবং তার পাশে রক্ত পাওয়া যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

