নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি গত সোমবার উপজেলার পাঁড়োরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক রবিউল ইসলাম ৫ম শ্রেণির ক্লাসে পাঠদানকালে এক শিক্ষার্থীকে পড়া জিজ্ঞাসা করেন। শিক্ষার্থী পড়া প্রস্তুত না থাকার কথা জানালে শিক্ষক তাকে বেত দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এতে শিক্ষার্থীর শরীরে আঘাতের দাগ পড়ে। তবে ভয়ে সে বিষয়টি প্রথমে পরিবারের কাউকে জানায়নি। পরে রাতে ঘুমাতে গিয়ে ব্যথায় চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা জানতে চাইলে সে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়।
এরপর শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বললে তিনি প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী একই ধরনের অভিযোগ করলে বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত শিক্ষক গত দুই দিন ধরে ছুটিতে রয়েছেন।
বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবক দাবি করেন, শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অভিযুক্ত শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, “আমি দুই-একটা বেতের আঘাত করেছি। আমি স্কুলেই তাদের কোচিং করাই। তবে মারটা একটু বেশি হয়ে গেছে, তাই শরীরে দাগ উঠেছে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুদর্শন বলেন, “বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিন হাজার টাকা দিয়ে আপসের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা এখনও প্রক্রিয়াধীন।”
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, “এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

