বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মামলাটি বাবুগঞ্জ থানায় এজাহার (এফআইআর) হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি গত ১০ জুলাই উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া এলাকায় ঘটে। ভুক্তভোগী ফারজানা আক্তার, যিনি বর্তমানে ২২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা, অভিযোগ করেন যে ওইদিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তার স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে তিনজন অভিযুক্ত তার ঘরে প্রবেশ করে তাকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয় এবং তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের, লক্ষাধিক টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রভাবশালীদের চাপের কারণে প্রথমে থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরে তিনি গত ২০ জুলাই বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিলে ২৫ জুলাই বাবুগঞ্জ থানা মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে।
মামলার আসামিরা হলেন মো. কাইয়ুম হাওলাদার (৩২), মো. মিনহাজ হোসেন (২৫) ও মো. সৈকত (২৮)।
বাবুগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মাসুদ হাসান বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান আসামি কাইয়ুম হাওলাদার বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার দাবি, গত ৮ জুলাই বিরোধপূর্ণ জমির গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল। সেই ঘটনার জের ধরেই তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, বাদীপক্ষের পরিবারের সদস্য সেকান্দার হাওলাদার অভিযোগ করেন, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে একাধিক দেওয়ানি মামলায় তাদের পক্ষে রায় হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এরপরও প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা ও বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী ফারজানা আক্তার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালত ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

