কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কৃষিজমিতে চাষাবাদে বাধা দিয়ে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অহিদুজ্জামান মুসা গত ৩০ জুলাই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুইজনের নাম উল্লেখ করে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ জুলাই উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের বড় বালিয়াতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্ত তুহিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তার কৃষিজমিতে চাষাবাদ বন্ধ করে দেয় এবং তার বর্গাচাষীকে মারধর করে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অহিদুজ্জামান মুসা ২০১০ সালে বালিয়াতলী মৌজার ৫৫০ বিএস খতিয়ানের আওতাধীন ১ একর ৪৮ শতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বর্গাচাষের মাধ্যমে জমিটি ভোগদখলে রেখে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা তার কাছে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে জমিতে চাষাবাদ করতে না দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী অহিদুজ্জামান মুসা বলেন, “নিজের বৈধভাবে ক্রয় করা জমিতে চাষাবাদ করতে গিয়েও যদি চাঁদা দিতে হয়, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান অভিযুক্ত তুহিন বিশ্বাস। তিনি বলেন, “মুসা আমার স্ত্রীর নিকট আত্মীয়। ওই জমিতে আমাদেরও বৈধ দলিল রয়েছে। একই খতিয়ানের জমির মালিক আমি ও আমার স্ত্রী। আমাদের জমিসহ তিনি চাষাবাদ করছিলেন, তাই আমরা চাষাবাদ বন্ধ করেছি। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) জাকির হোসেন বলেন, “আদালত থেকে এখনো কোনো তদন্তের নির্দেশ আমাদের কাছে আসেনি। নির্দেশ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

