জাবিপ্রবি প্রতিনিধি
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের প্রভাষক আমিমুল ইহসান কানাডার University of Toronto Institute of Biomedical Engineering-এ Biomedical Engineering বিষয়ে পিএইচডি করার জন্য কানাডা সরকারের মর্যাদাপূর্ণ পূর্ণ অর্থায়নের স্কলারশিপ অর্জন করেছেন।
এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের অনুভূতি, গবেষণার পরিকল্পনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ভাবনা তুলে ধরেন।
আমিমুল ইহসান জানান, ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোতে তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র হবে Biomedical Electronics। তিনি বলেন, এই স্কলারশিপ অর্জন যেমন গৌরবের, তেমনি এর মর্যাদা ধরে রাখাও একটি বড় দায়িত্ব। এজন্য ধারাবাহিক গবেষণা, কঠোর পরিশ্রম এবং একাডেমিক উৎকর্ষ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, একসময় বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখলেও তা বাস্তবে পূরণ হবে—এমনটি কখনো ভাবেননি। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তিনি এই অর্জনকে তাঁর গবেষণা ও একাডেমিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে জাবিপ্রবির গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ-সুবিধার পার্থক্যও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, শক্তিশালী একাডেমিক সংস্কৃতি, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ এবং শিক্ষকদের জন্য পর্যাপ্ত গবেষণার সময় নিশ্চিত করা গেলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও আন্তর্জাতিক মানের গবেষক তৈরি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং গবেষণার জন্য সীমিত সময় অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষকদের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই একাডেমিক জবাবদিহিতা, আধুনিক গবেষণাগার, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ এবং গবেষণামুখী শিক্ষক নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর মতে, এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আরও বেশি গবেষণামুখী হয়ে উঠবেন।
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নিজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আমিমুল ইহসান বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর কর্মস্থল হওয়ায় এর প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও উন্নত অবকাঠামো, পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য শিক্ষক এবং শক্তিশালী একাডেমিক পরিবেশ গড়ে উঠবে।
উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে সুযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, জাবিপ্রবিতে কর্মরত অবস্থায় তিনি IEEE Student Branch, গবেষণাবিষয়ক কর্মশালা, সেমিনার এবং বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
জাবিপ্রবির এই তরুণ শিক্ষকের আন্তর্জাতিক অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সমগ্র একাডেমিক পরিবারের জন্য গর্ব ও অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

