Nabadhara
ঢাকামঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে ভাণ্ডারিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, তদন্ত কমিটি গঠন

Link Copied!

মো. শফিউল ইসলাম রনি,ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসানের কাছে অভিযোগ তুলে ধরেন। ইউএনও শিক্ষার্থীদের কথা শোনেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন।

ইউএনও জানান, অভিযোগের বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে দুই দফা বিদ্যালয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেছেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুবেদ সরকারকে আহ্বায়ক, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ আজমল হোসেনকে সদস্য সচিব এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজারকে সদস্য করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে চার কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউএনওর আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা উপজেলা পরিষদ চত্বর ত্যাগ করে।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী নেই। শিক্ষক মিলনায়তনে কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত থাকলেও প্রধান শিক্ষকের কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল।

মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমান জানান, শিক্ষকদের হাজিরা নেওয়ার পর হাজিরা খাতা নিজের কক্ষে রেখে তিনি কক্ষটি তালাবদ্ধ করে ইউএনওর বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেছেন।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, তাদের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গত রোববার (১৬ আগস্ট) ও সোমবার (১৭ আগস্ট) ইউএনও দুই দফা বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত করেন। এ সময় তিনি অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানসিক হয়রানি ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার পাশাপাশি নারী শিক্ষকদের পোশাক নিয়ে কটূক্তি ও হয়রানি করে আসছেন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় কয়েকজন শিক্ষকের অভ্যন্তরীণ বেতন বন্ধ রাখার অভিযোগও করেছেন তারা।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রসিদ ও যথাযথ ভাউচার ছাড়া বিদ্যালয়ের বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন এবং ওই অর্থের যথাযথ হিসাব উপস্থাপন না করার অভিযোগ রয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত ও পুনর্বহালের সুযোগ দেখিয়ে অর্থ দাবি, নিয়মবহির্ভূতভাবে ফারজানা আক্তার নিপা নামে একজনকে প্যারা-টিচার হিসেবে নিয়োগ এবং তাঁর মাধ্যমে ছাত্রীদের প্রাইভেট ও কোচিং পড়তে বাধ্য করার অভিযোগও করেছেন শিক্ষকরা। কোচিং কার্যক্রম থেকে প্রধান শিক্ষক কমিশন নিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষকদের আরও দাবি, ২০২৩ সালে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি লিয়াকত আলী তালুকদারের করা একটি মামলায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়েছিল এবং তদন্তে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ নিয়েও অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। তাদের দাবি, টেস্ট পরীক্ষায় কয়েকটি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। টিসি বা ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রেও ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ দাবি ও আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কোচিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় এবং কোচিংয়ে যুক্ত সহকারী শিক্ষকদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগও রয়েছে। বিদ্যালয়ের সংস্কার, প্রচার ও অন্যান্য কাজের কথা বলেও শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।

শিক্ষকদের দাবি, এসব অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

তবে প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইউএনওর কাজ ইউএনও করবেন, আর আমি আমার কাজ করব।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান বলেন, শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিন তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অধিকতর তদন্তের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে চার কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।