Nabadhara
ঢাকাশনিবার , ২২ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনায় বাড়ছে যানজট, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সমন্বিত পরিকল্পনার দাবি

রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
আগস্ট ২২, ২০২৬ ৮:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা নগরীতে দিন দিন তীব্র হচ্ছে যানজটের ভোগান্তি। নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কগুলোতে অতিরিক্ত ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং সড়কের পাশে অবৈধ পার্কিংয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্ন বন্ধ থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সামান্য পথ পাড়ি দিতেও যানবাহনকে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হচ্ছে।

বিশেষ করে ময়লাপোতা মোড়, গল্লামারী, সাতরাস্তা, নিউমার্কেট, শেরেবাংলা রোড, ডাকবাংলো মোড়, থানার মোড় ও দৌলতপুর এলাকায় দিনের বড় একটি সময় যানজট লেগে থাকছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। যানজটের পাশাপাশি অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া চলাচলে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ময়লাপোতা মোড়। আটটি সড়কের সংযোগস্থল হওয়ায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে যানবাহনের চাপ থাকে। মোড়সংলগ্ন ইউটার্ন বন্ধ থাকা এবং একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পার্কিংয়ের কারণে সড়কের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ায় যান চলাচলে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

শুধু ময়লাপোতা নয়, নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সামনে সড়কের অংশ ব্যবহার করে যানবাহন রাখা হচ্ছে। কোথাও আবার যাত্রী ওঠানামার জন্য চালকেরা মাঝসড়কে গাড়ি থামাচ্ছেন। এতে স্বাভাবিক গতিতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে খুলনা নগরীতে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে সিটি করপোরেশনের হিসাবে যাত্রী পরিবহনের জন্য ৭ হাজার ৯৮০টি এবং পণ্য পরিবহনের জন্য ২ হাজার ৯৬টি ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৭ হাজার রিকশার লাইসেন্স রয়েছে। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রিকশার লাইসেন্স নবায়ন হয়েছে মাত্র ৬৮০টি।

রিকশার লাইসেন্স নবায়ন নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় এ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, নগরীর প্রায় ১ হাজার ৩০০ সড়কে বর্তমানে আনুমানিক ৩০ হাজার ইজিবাইক ও ২০ হাজার রিকশা চলাচল করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরীর প্রবেশপথ গল্লামারী, সোনাডাঙ্গা, আড়ংঘাটা ও রূপসা দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান ও রিকশা শহরে ঢুকছে। খুলনার আশপাশের উপজেলা ও শহরতলি থেকে এসব যানবাহন যাত্রী নিয়ে নগরে প্রবেশ করলেও নগর থেকে বের হওয়ার সময় অনেক চালক যাত্রীর আশায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দাঁড়িয়ে থাকেন। ফলে যানবাহনের চাপ আরও বাড়ে।

এ ছাড়া কেডিএ এভিনিউ, শেরেবাংলা রোড ও গল্লামারী সড়কের বিভিন্ন ইউটার্ন বন্ধ থাকায় যানবাহনকে বিকল্প পথে ঘুরতে হচ্ছে। এতে নির্দিষ্ট কয়েকটি মোড়ে গাড়ির চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে পার্কিং এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ময়লাপোতা মোড়ের সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে, শান্তিধাম মোড়সংলগ্ন ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল এলাকা, গল্লামারী, ডাকবাংলো মোড়, থানার মোড় ও দৌলতপুরে এ সমস্যা বেশি চোখে পড়ে। রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি যানবাহনও অনেক সময় যানজটে আটকে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “খুলনার সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলার ঘাটতি রয়েছে। মানুষের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্নগুলো বন্ধ থাকায় যানবাহনকে অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। যানজট নিরসনে বিভিন্ন সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি। এখন কেসিসি, কেএমপি ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেসিসির এক কর্মকর্তা বলেন, নগরের যানজট কমাতে শহরের বাইরে থেকে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইজিবাইককে হলুদ ও সবুজ রঙে ভাগ করে নির্দিষ্ট সময়ে চলাচলের পরিকল্পনাও ছিল। তবে এসব সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় যানজটের চাপ কমানো যাচ্ছে না।

কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শফিকুল ইসলাম বলেন, নগরের যানজট নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইজিবাইককে হলুদ ও সবুজ রঙে ভাগ করা, নগরের বাইরে থেকে ইজিবাইকের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং সীমিতসংখ্যক ইজিবাইককে দুই ধাপে চলাচলের ব্যবস্থা করার বিষয় রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে নগরের যানজট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

নগরবাসীর দাবি, শুধু অভিযান চালিয়ে সাময়িকভাবে যানজট নিয়ন্ত্রণ নয়; বরং কোন সড়কে কতসংখ্যক যান চলবে, কোথায় ইউটার্ন থাকবে, কোথায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা হবে এবং কোন এলাকা থেকে কী ধরনের যান নগরে প্রবেশ করবে—এসব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ এবং ট্রাফিক আইন মানাতে কঠোর নজরদারি বাড়ানো গেলে খুলনার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।