জাবিপ্রবি প্রতিনিধি
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল আহমেদের বিরুদ্ধে নিজ সংগঠনের দুই নেতাকে মারধর, প্রকাশ্যে হুমকি এবং আবাসিক হলের বরাদ্দকৃত সিট দখলের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী দুই শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিজেদের নিরাপত্তা এবং হলের বরাদ্দকৃত সিট ফিরে পেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্টের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা।
লিখিত অভিযোগ ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিজয়-২৪’ হলের ৩০৮ নম্বর কক্ষের বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আমান উল্লাহ অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ, সদস্য সাখাওয়াত হোসেন জিকু ও সিফাত হাসান সচ্ছ জোরপূর্বক তাঁর কক্ষে অবস্থান করছেন এবং তাঁকে কক্ষে প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন।
অভিযোগে আমান উল্লাহ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে কক্ষে প্রবেশ করতে না দিয়ে বাইরে রাত কাটাতে বাধ্য করা হয়। পরদিন সকালে কক্ষে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তাঁর বরাদ্দকৃত বিছানা (সিট) শাকিল আহমেদ দখল করে আছেন এবং কক্ষটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ। তাঁর ল্যাপটপসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কক্ষের ভেতরে থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া পৃথক অভিযোগে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম ইফতে খায়রুল অভিযোগ করেন, গত ২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আন্তঃবিভাগীয় খেলা চলাকালে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাকিল আহমেদ তাঁকে প্রকাশ্যে মারধর করেন।
পরে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ইফতে খায়রুল। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
খেলার মাঠের ঘটনার বিষয়ে সমাজকর্ম বিভাগের দলের তৎকালীন ম্যানেজার ও প্রভাষক ইমরুল কবির বলেন, “মাঠে কে খেলবে—এ নিয়ে ছাত্রদের দুই পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতির উপক্রম হয়। তারা আমার কোনো কথা শুনছিল না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় আমি বিভাগের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতেই ম্যানেজারের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়ে মাঠ থেকে চলে আসি। তবে তাদের মধ্যে প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডা হয়েছিল।”
তবে শিক্ষার্থীদের করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের রুম খোলাই আছে। সে (আমান) চাইলে যেকোনো সময় রুমে আসতে পারে। তাকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।”
নিউজটি লেখা পর্যন্ত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাকিল আহমেদ ওই কক্ষের একটি ভিডিও পাঠান। তাঁর দাবি, ভিডিওতে আমান উল্লাহকে কক্ষের ভেতরে অবস্থান করতে দেখা যায়।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমান বলেন, “আমরা অনলাইনে অভিযোগগুলো পেয়েছি। বিষয়টি সমাধানের জন্য বৃহস্পতিবার রাত ২টা পর্যন্ত প্রক্টরিয়াল বডি ও প্রভোস্ট মিলে কাজ করেছি। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। আমরা এক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করলেও অন্য পক্ষ পরে আর আসেনি এবং ফোনও ধরেনি। উপাচার্য স্যার বিষয়টি অবগত আছেন। আশা করছি রবিবারের মধ্যে এর একটি চূড়ান্ত সমাধান হবে।”
এদিকে, আবাসিক হলের সিট দখলের অভিযোগের বিষয়ে ‘বিজয়-২৪’ হলের প্রভোস্ট ড. মুহাম্মদ ফরহাদ আলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

