কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় জাল কাগজপত্র দিয়ে দলিল লেখার অভিযোগে দুই দলিল লেখককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন—তা জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃত দুই দলিল লেখক হলেন উপজেলার সোনাটিয়া গ্রামের কাসেম শাহের ছেলে মো. মনিরুজ্জামান শাহ এবং পাখরপাড় গ্রামের মৃত সুধীর মন্ডলের ছেলে শুক্রাচার্য মন্ডল।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) কোটালীপাড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেন। একই সঙ্গে তিন কর্মদিবসের মধ্যে নোটিশের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২৭ আগস্ট মো. মনিরুজ্জামান শাহ ও শুক্রাচার্য মন্ডল দুটি দলিল লিখে রেজিস্ট্রির জন্য সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেনের কাছে দাখিল করেন। দলিলের সঙ্গে থাকা কাগজপত্র দেখে সন্দেহ হলে সাব-রেজিস্ট্রার তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই-বাছাই করেন। পরে তদন্তে দলিল দুটির সঙ্গে দাখিল করা কাগজপত্র জাল বলে প্রমাণিত হলে ওই দুই দলিল লেখকের বিরুদ্ধে সাময়িক বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বহিষ্কৃত দলিল লেখক মো. মনিরুজ্জামান শাহ বলেন, “দাতা-গ্রহিতারা দলিল ও পর্চাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আমার কাছে দলিল করার জন্য আসেন। আমি নিয়ম মেনেই কাগজপত্র তৈরি করে সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিয়েছিলাম। তিনি কাগজপত্র যাচাই করে ভায়া দলিল ও দাখিলা জাল বলে জানান। এ ঘটনায় আমাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমি এরই মধ্যে নোটিশের লিখিত জবাব দিয়েছি।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অপর বহিষ্কৃত দলিল লেখক শুক্রাচার্য মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে একই মাসে উপজেলার বংকুরা গ্রামের মৃত নেহাল উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন শেখ এবং কাঠি গ্রামের মৃত শহীদুল শরীফের ছেলে মিজানুর রহমান বুলবুল শরীফকেও জাল দলিল লেখার অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও দলিল লেখক অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কয়েকজন দলিল লেখক দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে জাল দলিল তৈরি করে আসছেন। এর সঙ্গে অফিসের একটি চক্রও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মাধ্যমে শত শত মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এ চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন বলেন, “দলিল রেজিস্ট্রির সময় জাল কাগজপত্র উপস্থাপনের কারণে মো. মনিরুজ্জামান শাহ ও শুক্রাচার্য মন্ডলকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

