কালকিনি ও ডাসার প্রতিনিধি
অফিস চলাকালীন কক্ষ তালাবদ্ধ রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি, সেবা নিতে আসা মানুষের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা এবং কাজ করে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কার্যালয়টিতে এমন অনিয়ম ও হয়রানি চলে আসছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
গত রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নবগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দাপ্তরিক সময় চললেও কার্যালয়ের প্রতিটি কক্ষের দরজায় তালা ঝুলছে। জানালাগুলো খোলা থাকলেও ভেতরে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন না। এ সময় ভবনের বারান্দা ও বাইরে ৫-৬ জন সেবাগ্রহীতা অপেক্ষা করছিলেন।
ভুক্তভোগীদের একজন চলবল গ্রামের বাসিন্দা নির্মল মল্লিক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নামজারির (মিউটেশন) কাজ করে দেওয়ার কথা বলে কার্যালয়ের অফিস সহায়ক সৈয়দ মিন্টু তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও কাগজপত্রে ভুল আসে। সেই ভুল সংশোধনের জন্য রোববার অফিসে এসে দুই ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেও কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দেখা পাননি তিনি।
নির্মল মল্লিক বলেন, “টাকা দিয়েও কাজের কাজ কিছুই হয়নি, উল্টো কাগজে ভুল আসছে। এখন তা ঠিক করতে এসে দেখি দরজায় তালা ঝুলছে। দুই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, কাউকেই পাচ্ছি না।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অফিস সহায়ক সৈয়দ মিন্টুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থতা, নামাজ ও দুপুরের খাবারের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি একটু অসুস্থ থাকার কারণে দেরি হয়েছে, নামাজেও গিয়েছিলাম।” সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণ পর তিনি মোটরসাইকেলে করে কার্যালয়ে এসে পৌঁছান। তবে নামজারির জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি।
স্থানীয়দের দাবি, কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রায়ই দাপ্তরিক সময়েও অফিস সহায়ককে কার্যালয়ে পাওয়া যায় না। তিনি অফিস বন্ধ রেখে ব্যক্তিগত কাজে চলে যান বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে দাপ্তরিক সময়ে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি নবগ্রাম ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. রাজ্জাককেও। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কার্যালয়ের কম্পিউটার নষ্ট থাকায় সেটি মেরামতের জন্য মাদারীপুর জেলা সদরে গেছেন।
নবগ্রাম ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের প্রায় ১৪ হাজার মানুষের ভূমি সেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এই ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়। সেখানে নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি, অফিস বন্ধ রাখা এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত এসব অনিয়ম বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও কার্যকর ব্যবস্থা দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, “অফিস চলাকালীন সময় কার্যালয় বন্ধ রাখা কিংবা সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

