কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালীগঞ্জে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে জমি দখলের চেষ্টা, গাছ কেটে ক্ষতিসাধন ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছয়জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক প্রতিবন্ধী নারীসহ একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ওই নারীকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের বেরুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নুরু মিয়া।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেরুয়া গ্রামের মৃত বিল্লাল উদ্দিনের ছেলে নুরু মিয়ার পৈতৃক ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমির পাশে জমি কেনেন মীর সজিবুর রহমান। এরপর জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান হয়নি বলে দাবি নুরু মিয়ার।
নুরু মিয়ার অভিযোগ, ঘটনার দিন মীর সজিবুর রহমান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহমেদুল কবির নাইমের নির্দেশে বেরুয়া গ্রামের রতন মিয়া, দেলোয়ার হোসেন, নাজমুল ও আতা মিয়াসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছ কেটে প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। পরে শ্রমিক দিয়ে সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।
এতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা গালিগালাজ করেন এবং তাঁর প্রতিবন্ধী বোন শরিফা বেগমের জামাকাপড় ধরে টানাহেঁচড়া ও চুলের মুঠি ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন নুরু মিয়া। এ সময় তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী খালেদা বেগম প্রতিবাদ করলে তাঁকেও মারধর করা হয়। এ ছাড়া ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে নুরু মিয়ার ১৫ বছর বয়সী ভাতিজি আফরিনকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে পরিবারের চারজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
আহত শরিফা বেগমকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নুরু মিয়া।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আহমেদুল কবির নাইম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। আমি জমির কোনো পক্ষ নই। আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। একটি মহল আমাকে হেয় করার জন্য আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে আমার কোনো আপত্তি নেই; বরং সহযোগিতা থাকবে।”
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বেরুয়া গ্রামের নুরু মিয়া জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

