পিরোজপুর প্রতিনিধি
পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও অন্যতম সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের পারিবারিক বাড়িতে তাঁকে দাফন করা হয়।
এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে সেখানে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি দেখা যায়। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহটি পিরোজপুর পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। বিকেল ৫টার দিকে সেখানে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর সদর থানা পুলিশ মরদেহের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়।
রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের সহায়তায় মরদেহটি তাঁর বাড়িতে পৌঁছানো হয়। পরে রাত ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে জামায়াতে ইসলামী বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বাধা দেননি। তাঁরা পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন। জামায়াতে ইসলামী লাশের রাজনীতি করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও অন্যতম সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি যশোর ও গোপালগঞ্জে অবস্থান করেছিলেন বলে জানা গেছে। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

