নরসিংদী প্রতিনিধি
জন্মদাতা বাবা-মায়ের স্নেহ-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত সাত বছরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু সোহানার পাশে দাঁড়িয়েছেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। শিশুটির চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয়, পরিচর্যা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সম্প্রতি নরসিংদী শহরের বানিয়াছল এলাকায় সোহানাকে দেখতে যান জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি শিশুটির শারীরিক অবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোহানাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাত বছর বয়সী সোহানা জন্ম থেকেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। সে ঠিকমতো হাঁটাচলাও করতে পারে না। অভিযোগ রয়েছে, তার বাবা-মা তাকে ফেলে চলে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে শিশুটির আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করে আসছেন আম্বিয়া বেগম নামের এক বৃদ্ধা। নিজেরই দুবেলা খাবার জোগাড় করা কঠিন হলেও ভিক্ষা করে পাওয়া সামান্য অর্থ থেকে সোহানার মুখে খাবার তুলে দেন তিনি। সীমিত সামর্থ্য নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে শিশুটিকে আগলে রেখেছেন এই বৃদ্ধা।
রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও সোহানার প্রতি আম্বিয়া বেগমের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর এমন ভূমিকার প্রশংসা করেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। শিশুটির প্রতি দায়িত্বশীলতা ও মমতার জন্য তিনি আম্বিয়া বেগমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
জেলা প্রশাসক বলেন, “একটি শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা তার পরিবার। কিন্তু সেই আশ্রয়ই যখন হারিয়ে যায়, তখন শিশুটির হাত ধরে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব।”
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সোহানার বাবা-মায়ের সন্ধান, জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে। প্রয়োজনে সরকারি শিশু পরিবারে তার নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করা হবে। একই সঙ্গে শিশুটির চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে সোহানার অনিশ্চিত জীবনে নতুন আশার সঞ্চার হবে। বাবা-মায়ের স্নেহবঞ্চিত এই শিশুর নিরাপদ আশ্রয়, যথাযথ পরিচর্যা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সবার প্রত্যাশা।

