জিহাদুল ইসলাম, কালিয়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের জোকা বাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা আমির ওসমান এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে। পর্যাপ্ত পানি ব্যবহার না করায় টাইলস খসে পড়ছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, ফিটিংসে ত্রুটি ও নিম্নমানের গেট স্থাপনের অভিযোগও উঠেছে। এতে কাজের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। এ ছাড়া কাজের প্রাক্কলন ও শর্তসংবলিত সিডিউল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি কাজে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি ওয়াশ ব্লক নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয় মাগুরার ভায়নার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা আমির ওসমান এন্টারপ্রাইজকে। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই কাজ শুরু হয়ে ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে প্রায় দুই বছরেও সব কাজ শেষ হয়নি। সময় বাড়িয়ে নির্মাণকাজ চালু রাখা হয়েছে। পাঁচটি কাজের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি কাজগুলো নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক রীপা রানী সাহার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামতো কাজ করছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ আমলে নেওয়া হচ্ছে না। কাজের সিডিউল চাইলেও ঠিকাদার তা দিচ্ছেন না। বেশির ভাগ কাজ বিদ্যালয় বন্ধের দিনে করা হয়। বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি কাজী মহাসীন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জোনায়েদ শরীফ অভিযোগ করেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও পর্যাপ্ত পানি না দেওয়ায় কাজের মান খারাপ হচ্ছে। ঠিকাদারকে বারবার জানানোর পরও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া ক্লোজেবল গেটে পাতলা ও নিম্নমানের লোহা ব্যবহার করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানালেও গেটটি পরিবর্তন না করে স্থাপন করা হয়েছে। ফিটিংসের কাজেও বিভিন্ন ত্রুটি রয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার মো. জিয়াউর রহমান বলেন, কিছু সমস্যার কারণে বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল। কাজে কোনো অনিয়ম থাকলে তা সংশোধন করে নির্মাণকাজ সম্পন্নের পর হস্তান্তর করা হবে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. খালিদ আহমেদ ওসমানী জানান, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হলে তা ভেঙে নতুন করে করার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সরকারি ছুটির দিনে কাজ বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার তা মানেননি। প্রধান শিক্ষককে কাজের সিডিউল না দেওয়ার বিষয়টিও সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছেন তিনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবেন বলেও জানান তিনি।

