কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলনের আশা করছেন তাঁরা। তবে বীজ, সার ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। তাঁদের দাবি, উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
কুষ্টিয়ায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। জেলার মধ্যে সীমান্তবর্তী কৃষিপ্রধান উপজেলা দৌলতপুরে এ পেঁয়াজের সিংহভাগ চাষ হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, বীজ, সার ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় পেঁয়াজ চাষে খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব ও আমদানিনির্ভরতার কারণে বাজারদর নিয়ে শঙ্কা রয়েছে তাঁদের।
শশীধরপুর গ্রামের কৃষক নাসির উদ্দিন বলেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে সময় কম লাগে এবং বাজারে এর চাহিদাও ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাড়তি উৎপাদন খরচের পরও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
স্বরূপপুর গ্রামের কৃষক নিজাম উদ্দিন জানান, প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বিঘাপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ মণ ফলন এবং প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম কমপক্ষে ৫০ টাকা পাওয়া গেলে লাভবান হবেন তাঁরা। অন্যথায় লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
ধর্মদহ এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম মিলন বলেন, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজ স্বল্প সময়ে উৎপাদন করা যায়। প্রায় দুই মাসের মধ্যে আগাম এ ফসল বাজারজাত করতে পারেন কৃষকরা। এতে তাঁদের সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা ফেরার সুযোগ তৈরি হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেলে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতাও কমতে পারে।

