Nabadhara
ঢাকারবিবার , ৯ মার্চ ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গোয়ালন্দে প্রতারণার মাধ্যমে পদ্মা চরের বালু বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
মার্চ ৯, ২০২৫ ৯:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)

 

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বিনা টেন্ডারে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ বালু বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে শিমুল মিয়া নামে রাজবাড়ীর এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

 

জেলা বালু ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারী উন্নয়ন প্রকল্পে এবং সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বালু সরবরাহের জন্য তাকে অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু তিনি তা না করেন নি। তিনি নিজেকে বালুর টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে লট আকারে বিপুল সংখ্যক ওই বালু বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।

 

প্রশাসন বালুর ওই ভান্ডার হতে জমির মালিক হিসেবে স্হানীয় মোশাররফ হোসেন ওরফে মুসা মন্ডল এবং নুরু শেখকে তাদের একটি অংশ বুঝিয়ে দেয়।

 

এর বাইরে অভিযুক্ত ঠিকাদার দৌলতদিয়ার বালু ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেন মন্ডল, সোহেল মন্ডল, সোরাপ মন্ডল, হালিম ফকির সহ আরো বেশ কযেকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা নিয়ে তাদের বালু উত্তোলন, পরিবহন ও বিক্রির সুযোগ করে দেন।

 

জমির মালিক মোশাররফ হোসেন ওরফে মুসা মন্ডল বলেন,

যেখানে নদীর ড্রেজিংকৃত বালু ফেলা হয়েছে সেখানে তাদের প্রায় ৪০ বিঘা জমি রয়েছে। সেখান থেকে জমির মালিক হিসেবে তিন ভাগের একভাগ বালু আমাকে উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়। আমি সেইভাবেই বালু তুলছিলাম। বালু পরিবহনে জমি ব্যবহার করায় স্হানীয় গফুর পাল, শহীদ পাল ও হোজাই পালকে ইউএনও নির্দেশিত ২০ টাকা করে গাড়ি প্রতি দিচ্ছিলাম। এভাবে তাদেরকে এ পর্যন্ত ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৫৮০ টাকা প্রদান করেছি।

 

কিন্তু তারা তাতে সন্তুষ্ট হতে না পেরে আমাদের বিরুদ্ধে গত ৬ মার্চ মিথ্যা অভিযোগ এনে মানববন্ধন করে এবং ইউএনওর নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়। তারপর হতে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।

 

বালু ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেন জানান, তারা কয়েকজন মিলে ১০ লক্ষ টাকার মৌখিক চুক্তিতে বালির একটি অংশ মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্সের মালিক শিমুল মিয়ার কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন। অগ্রিম ৫ লক্ষ টাকা দেয়ার পর বাকি টাকা ধাপে ধাপে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় । কিন্তু তিনি কোন রশিদ দেননি। অন্য আরো কয়েকটা গ্রুপও এভাবে তার কাছ থেকে বালি কিনে বিভিন্ন জায়গায় পরিবহন করছিলেন। আমরা অবৈধভাবে বালু তুলিনি।এখন বালু তুলতে না পেরে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

 

 

অভিযোগকারীদের মধ্যে গফুর পাল ও শহীদ পালসহ কয়েকজন বলেন, বালু বাবদ আমরা  কোন টাকা পয়সা নেইনি। তবে তাদের (মুসা মন্ডলগং) সাথে ব্যবসায়ীক লেনদেন আছে।

 

রাজবাড়ী জেলা বালু ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব এবং বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা অঞ্চলের  নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান আহমেদ জানান, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নাব্যতা বাড়াতে  তারা এ বছর  ড্রেজিং করে ৩২ লক্ষ ঘনফুট বালু উত্তোলন করেন। উত্তোলিত বালুর মধ্য দুইটি লটে ১৭ লক্ষ ঘনফুট নদীর পাড় ঘেষে ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমির উপর ফেলা হয়। জানুয়ারি মাসে জেলা সমন্বয় সভায় উক্ত বালু বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং তা পরিবহনের জন্য এসএম মোল্লা ট্রেডার্সকে দায়িত্ব দেয়া হয়।  কিন্তু তাকে অন্য কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রির অনুমোদন দেয়া হয়নি। অভিযোগগুলো নিয়ে উর্ধতন পর্যায়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

অভিযোগের বিষয়ে এসএম মোল্লা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শিমুল মিয়ার মুঠোফোনে গত দুইদিন ধরে বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

 

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাহিদুর রহমান বলেন, এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগের পর বালু উত্তোলন সাময়িক বন্ধ রাখা রয়েছে। সেইসাথে কোন বিশৃঙ্খলা না করতে সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।