নাজিম বকাউল, ফরিদপুর
ফরিদপুরের মধুখালীতে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা ও আন্তর্জাতিক অর্থপাচার চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে সেনা ক্যাম্প ও পুলিশের যৌথ বাহিনী। রোববার (১৩ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া সাত ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান সোমবার সকাল সাড়ে আটটায় মধুখালী উপজেলার ডোমাইন বাজার এলাকায় শেষ হয়।
আটককৃতরা হলেন—মাদক ব্যবসায়ী মো. কামরুল মিয়া এবং তার সহযোগী অমরেশ বিশ্বাস, সোহান মালিক, হাফিজুর রহমান ও শেখ শাকিল আহমেদ। অভিযান চলাকালে তাদের কাছ থেকে ১০৬ পিস ইয়াবা, ৪২টি গ্রামীণফোন সিমকার্ড এবং ১০টি মোবাইলফোন জব্দ করা হয়।
সেনাক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ফরিদপুর সেনা ক্যাম্পে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে জানানো হয়, প্রতারকচক্র বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবার ভুয়া কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি সেজে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট, পিন ও ওটিপি সংগ্রহ করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল।
গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, প্রতারিত অর্থের বড় একটি অংশ ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার ডোমাইন ইউনিয়ন এলাকায় স্থানান্তরিত হচ্ছিল। এসব অর্থ পরবর্তীতে শতাধিক অনলাইন জুয়া ও বেটিং প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা হতো, যেখানে সফটওয়্যার ও স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে ‘নিশ্চিত জয়’ নিশ্চিত করে অর্থ উত্তোলন করা হতো। পরবর্তীতে সেসব অর্থের ৫০ শতাংশ বিদেশে—বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পাচার করা হতো, এবং বাকি অংশ স্থানীয়ভাবে ভাগ করে নিত চক্রের সদস্যরা।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, সাইবার অপরাধ দমন আইন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মধুখালী থানায় হস্তান্তরিত করা হয়েছে তাদের।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশব্যাপী মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। এ জন্য তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় অবৈধ সিম বিক্রেতাদের মাধ্যমে পূর্বনিবন্ধিত মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, এই চক্রের অপতৎপরতা শুধু ফরিদপুরেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগেও তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত ছিল। মোবাইল ব্যাংকিংকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই চক্র ডিজিটাল প্রতারণার এক ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চক্রটির অন্যান্য সদস্যদেরও শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

