মফিজুল ইসলাম, ঝিনাইদহ
একসময় যেখান থেকে ঝিনাইদহবাসী দেশের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতেন, সেখানকার চিত্র এখন সম্পূর্ণ বিপরীত। কোলাহলমুখর সেই বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) অফিস এখন যেন জনশূন্য, প্রাণহীন এক পরিত্যক্ত ভবন। বছরের পর বছর জনবল নিয়োগ বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যত এখন মৃতপ্রায়।
সূত্র জানায়, এক সময় ঝিনাইদহ জেলায় কয়েক হাজার বিটিসিএল টেলিফোন সংযোগ ছিল। বাসা-বাড়ি, অফিস কিংবা প্রতিষ্ঠানে একটি ল্যান্ডফোন থাকাটাই ছিল মর্যাদার প্রতীক। মোবাইল ফোন ও বেসরকারি অপারেটরদের চাপে সেই গৌরব এখন ইতিহাস। বর্তমানে এই জেলার টেলিফোন সংযোগ কমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১,২৭৪টি। এর মধ্যে মাত্র ৬০০টি জি-ফোন ইন্টারনেট সংযোগ।
কিন্তু সমস্যা শুধু সংযোগ কমে আসা নয়। সবচেয়ে বড় সংকট এখন জনবলের। ঝিনাইদহ বিটিসিএল অফিস সূত্রে জানা গেছে, পুরো জেলায় বর্তমানে মাত্র ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বে রয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ে কোথাও একজন, কোথাও দুইজন কর্মচারী দিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা চলছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের অধীনে থাকা তিনজন কর্মকর্তা বয়সজনিত কারণে অবসরের অপেক্ষায়। তারা বিদায় নিলে সেই পদগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় গ্রাহক সেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। সংযোগে সমস্যা হলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ২৪ ঘণ্টা সেবা না থাকায় জি-ফোন ব্যবহারকারীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, মাসের পর মাস বিল আসে না, আবার হঠাৎ করেই একসঙ্গে ৬-৮ বছরের বকেয়া বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ঝিনাইদহ শহরের এসএম বিল্লাহ জানান, আট বছর আগে তিনি টেলিফোন সংযোগ বাতিল করলেও সম্প্রতি তাকে একসঙ্গে আট বছরের বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গ্রাহক মিনারা পারভিন বলেন, “নিয়মিত বিল না আসায় একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে হয়। এটা খুব কষ্টকর।”
অন্য এক গ্রাহক জানান, তার বাসায় কখনোই বিল পৌঁছায় না। ফলে পরিষেবা বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি জানতেও পারেন না বকেয়া কত হলো।
বিষয়টি নিয়ে বিটিসিএলের ঝিনাইদহ অফিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পল্লবী ঘোষ বলেন, “অফিসে কতজন কর্মরত আছেন, তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। যশোর অফিসে জানতে হবে। তবে জনবল পূরণ হলে সমস্যাগুলোর অনেকটাই সমাধান হবে বলে আশা করি।”
একসময় যেখান থেকে ঝিনাইদহের মানুষ দেশ-বিদেশে কথা বলতেন, সেই প্রতিষ্ঠানটি আজ সেবাহীনতা, জনবল সংকট ও অব্যবস্থাপনায় ধুঁকছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়াও সময়ের ব্যাপার মাত্র।

