আবদুল জলিল, কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ি ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের “মোহাম্মদ আলী শিশু সদন” নামের একটি এতিমখানায় গত পাঁচ বছর ধরে কোনও এতিম না থাকলেও সরকারিভাবে প্রতি বছর বরাদ্দ পাওয়া টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে।
১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ও জেলা সমাজসেবা অফিস থেকে নিবন্ধিত (রেজি নং-সিরাজ-৩৯৬/৯৬) এই এতিমখানাটিতে করোনার সময় (২০২০) থেকে একেবারেই এতিমশূন্য হয়ে পড়ে। কিন্তু ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতি মাসে ২০ জন এতিম দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা হারে মোট ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও ভুয়া এতিম ও জাল কাগজপত্র দেখিয়ে বরাদ্দ নেয়ার চেষ্টা চালানো হয়, যা পরে সমাজসেবা অফিস থেকে স্থগিত করা হয়।
সরেজমিন তদন্তে দেখা গেছে, এতিমখানাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। দরজায় তালা, বারান্দায় খড়-লাকড়ির স্তূপ, সাইনবোর্ড ঝুলছে গাছের সঙ্গে। পাশের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ৪-৫ বছর ধরে কেউ এতিম দেখেননি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কমিটির লোকজন নিজেরা কমিটি গঠন করে কাছের একটি মাদ্রাসা থেকে ছাত্র এনে ছবি তুলে বরাদ্দ তোলেন। স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদকও স্বীকার করেছেন, কিছু ছাত্রকে এতিম দেখিয়ে টাকা তোলা হত, যার প্রতিবাদে মাদ্রাসা বন্ধ করে দেন তারা।
এতিমখানার সভাপতি জহুরুল ইসলাম বলেন, “জমি দিছি, টাকা তুলছি, এতিম আনি দিমু।” আর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল খালেক বরং বলেন, “আমার কাছে সব কাগজ আছে। আপনারা দেখার কেউ না।”
এ বিষয়ে তদন্ত করছে উপজেলা প্রশাসন। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, “তদন্তে গিয়ে এতিমখানায় কোন এতিম পাইনি, এটি এখন পরিত্যক্ত। প্রতিবেদন শিগগির জমা দেবো।”
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল রানা স্বীকার করেন, “সপ্তাহে একদিন অফিস করি, পরিদর্শন করা হয়নি। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে দীর্ঘদিন ধরে এতিমশূন্য একটি প্রতিষ্ঠানে কিভাবে তিন অর্থবছর ধরে নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ ও উত্তোলন হয়, তাতে স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও। জেলা সমাজসেবা উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান খান বলেছেন, “বিষয়টি দেখা হচ্ছে।”

