রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনায় সাংবাদিক ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলুর মরদেহ রূপসা নদীর খানজাহান আলী (রূপসা) সেতুর নিচ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মুখ থেঁতলানো, দুই হাত ভাঙা এবং সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলে মনে করছেন স্বজন ও সহকর্মীরা। তারা এই মৃত্যুর পেছনে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
রোববার (৩১ আগস্ট) রাত সোয়া ৮টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে রূপসা নৌ ফাঁড়ির পুলিশ। রূপসা নৌ পুলিশের এসআই মুহিদুল হক বলেন, “মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিষয়টি সন্দেহজনক। ময়নাতদন্ত ছাড়া কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”
ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলু দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে সংবাদ প্রতিদিন, চ্যানেল ওয়ান, ইউএনবি, আজকের কাগজ ও বঙ্গবাণী-সহ একাধিক গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। তিনি খুলনা প্রেস ক্লাব এবং সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার সকালে তিনি বাসা থেকে বের হন। দুপুরের পর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। পরে রাতে রূপসা সেতুর নিচে অচেনা মরদেহ পাওয়ার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে বুলুর মরদেহ শনাক্ত করেন।
তার ছোট ভাই আনিসুজ্জামান দুলু বলেন, “পারিবারিক কিছু টানাপোড়েন ও স্ত্রীর নিখোঁজ থাকাকে কেন্দ্র করে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। তবে মরদেহের অবস্থা দেখে নিশ্চিতভাবে বলা যায়—এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। ভাইয়ের মৃত্যুর পেছনে রহস্য রয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই।”
বুলুর শ্যালিকা নুরুন্নাহার পারভীন বলেন, “সকাল ১০টার দিকে তিনি বের হন। তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। সন্ধ্যার পর মরদেহ উদ্ধারের খবরে আমরা হতবাক হই।”
বন্ধু ও সহকর্মীরা বলছেন, এটি নিছক আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা নয়, এতে পূর্বপরিকল্পিত কিছু ঘটেছে বলেই মনে হচ্ছে। বুলুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাংবাদিক কামরুল হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার মনে হয়েছে—এটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশ যেন কোনো প্রকার চাপ বা প্রভাবের বাইরে থেকে তদন্ত চালায়।”
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে বুলুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে গোয়ালখালী কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় সাংবাদিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতারা অংশ নেন। খুলনা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক বলেন, “সাংবাদিক বুলুর মৃত্যু নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তর দিতে হবে প্রশাসনকেই। সাংবাদিক সমাজ তার বিচারের জন্য সোচ্চার থাকবে।”

