যশোর প্রতিনিধি
“স্বচ্ছ দৃষ্টি, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ—আমার চশমা আমাকে আরো স্পষ্টভাবে বোর্ড দেখতে সাহায্য করে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরে উদ্বোধন করা হয়েছে স্কুল শিক্ষার্থীদের চোখ পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ কার্যক্রম।
সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প ‘সি টু লার্ন’ প্রোগ্রামের আওতায় আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টার এবং ভিশন স্প্রিং এর যৌথ উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় দেশের পাঁচটি জেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা ও চক্ষু সেবা প্রদান করা হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
গত ২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ আকিজ কলেজিয়েট স্কুলে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুর।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা ও জেলা শিক্ষা অফিসার মো. মাহফুজুল হোসেন।
বক্তারা বলেন, “চোখ হলো দেহের অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বর্তমানে মোবাইল ও টিভি স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুদের চোখে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চোখের যত্ন নিতে হবে এবং নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হবে।”
ভিশন স্প্রিং-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মিশা মাহজাবীন, আকিজ কলেজিয়েট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান, সিভিসি’র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. রফিকুল ইসলাম এবং আদ্-দ্বীন চক্ষু প্রকল্পের জিএম মো. রবিউল হক-সহ আরও অনেকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
শিক্ষার্থীরা চোখ পরীক্ষার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করায় এবং কারও দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা ধরা পড়লে তাদের জন্য চশমা সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
এক শিক্ষার্থী জানায়, “এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। আমরা সহজেই স্কুলেই চোখ পরীক্ষা করাতে পেরেছি এবং কারো কারো সমস্যা ধরা পড়েছে, যারা আগে বুঝতেই পারিনি।”
অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা দূরে লেখা দেখতে সমস্যা অনুভব করছিলো, কেউ কেউ ক্লাসে মাথাব্যথা বা চোখে চাপ অনুভব করত। এবার তাদের সমস্যা চিহ্নিত হওয়ায় সঠিক সেবা মিলবে বলে তারা আশাবাদী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভিশন স্প্রিং-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার উম্মে সাউদা, রিসোর্স ম্যানেজার আশনা আফরোজ আহমেদ, আবিদুল হাসান, সুশান্ত সরকার শুভ ও মোফাচ্ছের হায়দার ভূঁইয়া। পুরো কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন আকিজ কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ।

