শামীম শেখ,গোয়ালন্দ ( রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ইমাম মেহেদী দাবিদার নুরুল ইসলাম ওরফে নুরাল পাগলের কবর উচু স্হান হতে সমতল ভূমিতে স্থানান্তর করার দাবিতে এবং তার আস্তানায় সকল ধরনের অনৈসলামিক কার্যকলাপের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত।
২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় উপজেলা মডেল মসজিদের হল রুমে গোয়ালন্দ উপজেলা ইমান- আকিদা রক্ষা কমিটি এ সংবাদ সম্মেলন করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির আহবায়ক, উপজেলা ইমাম কমিটির সভাপতি ও গোয়ালন্দ পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. জালাল জালাল উদ্দিন প্রামানিক।
সাংবাদিক সম্মেলনে ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির পক্ষে উপস্হিত ছিলেন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আইয়ুব আলী খান, আল জামিয়া নিজামিয়া আরাবিয়া কওমি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আমিনুল ইসলাম কাসেমী, সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মুহিত হীরা, গোয়ালন্দ পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম মন্ডল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আমজাদ হোসেন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, মুফতি শামসুল হুদা, মুফতি ওমর আজম, হাফেজ আবু সাইদ, কুরবান আলী প্রমূখ।
লিখিত বক্তব্যে মাওলানা জালাল উদ্দীন বলেন, গোয়ালন্দে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ইমাম মেহেদী দাবি করে আসছিল নুরুল ইসলাম ওরফে নূরাল পাগল।
জীবদ্দশনয় তিনি আমাদের পবিত্র কালেমাকে পরিবর্তন করে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ইমাম মেহেদী রাসুলুল্লাহ”।
এছাড়া পবিত্র আযানের বানী পরিবর্তন করে সে নিজে প্রবর্তিত আযান প্রচার করছে। আযানের মধ্যে তিনি “আশহাদু আন্না ইমাম মেহেদী রাসুলুল্লাহ” বলত”।
অপরদিকে মুসলমানদের পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কুরআনকে সে বলছে ভোজপাতা” সে আল কোরআনকে অবমাননা করেছে। তার দরবারে বিকৃত করে দুরুদ শরীফ পড়া হয়। সে ইমাম মেহেদী দাবি করত কিন্তু সে তার অনুসারে নামাজ পড়ত না। আমরা তখন তীব্র গনআন্দোলনে নামি। আন্দোলনের মুখে সে তখন গোয়ালন্দ ছেড়ে দীর্ঘদিন পালিয়ে ছিল।
সে গত মাসের ২৩ আগস্ট ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পূর্বে সে কাবা আদলে ১২ ফুট উঁচু বেদী তৈরি করে।মৃত্যুর পর তাকে সেই বেদীর উপরে অর্থাৎ মাটি থেকে ১২ ফুট উচু স্হানে তাকে কবর দিতে নসিহত করে যান।
বিতর্কিত ওই কবরটিকে পবিত্র কাবা ঘরের আদলে গড়ে তুলে তাতে কাবার মতো চারদিকে কালো রং করে দেয়।
মাওলানা জালাল উদ্দীন আরও বলেন, আমাদের ধারণা নুরাল পাগলের মরদেহের মাথা দক্ষিণে এবং উত্তর দিকে পা রেখে দাফন করা হয়েছে। যা শরীয়ত বিরোধী।
এ সমস্ত ব্যাপারে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। উত্তেজনা প্রশমনের জন্য প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে ইতিমধ্যে দুই দফা আলোচনা করে। আলোচনা সভা হতে নুরাল পাগলের পরিবার প্রথমে এক সপ্তাহ সময় নেয়।তা অতিবাহিত হওয়ার পর আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আরো এক সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে নেয়।
কিন্তু এখনো পর্যন্ত কবর নিচে নামানোর কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছে না। দুইদিন আগে আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়কে একটি স্মারকলিপি দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, নুরালের বড় ছেলে নূরতাজ সরলপ্রাণ মুসলমান নারী-পুরুষদের ধর্মাস্তরিত করে খৃষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা পর্যন্ত চলছে। এ সকল বিষয়ে সাধারণ জনগণ খুবই ক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে যদি কবর সমান না করা হয় এবং অন্যান্য দাবিগুলো পূরণ না করা হয় তবে আমরা বিক্ষোভ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। তখন উদ্ভুত যে কোন পরিস্হিতির দায় দায়িত্ব আমাদের উপর থাকবে না।
সাংবাদিক সম্মেলনে রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্হিত ছিলেন।

