জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা)
সরকারি খাল দখল করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং পানিবন্দি জনজীবনকে জিম্মি করে রাখা চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিলন মোল্যার গ্রেপ্তার ও দখলদারিত্ব বন্ধের দাবিতে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় উত্তর বাইনতলা পুরানো জামে মসজিদ সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধনে অংশ নেয় জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত বাইনতলা, মাদিয়া, লক্ষীখোলা ও বড়দল গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বড়দল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আলীমের ছত্রছায়ায় তার ভাই মিলন মোল্যা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চেউটিয়া খালের প্রায় ৬০০ বিঘা জায়গা দখল করে সেখানে নেটপাটা ও মাটির বাঁধ দিয়ে ভাগ বাটোয়ারা করেছেন। এসব তিনি করেছেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে।
বক্তারা আরও বলেন, সরকারি খাল দখলের ফলে এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতিনিয়ত জলাবদ্ধতায় ভুগছে কয়েকটি গ্রামের মানুষ। অধিকাংশ কৃষক জমিতে ধান রোপণ করতে পারছেন না। উত্তর বাইনতলা গ্রামের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ করেন, মিলন মোল্যা ও তার বাহিনীর অত্যাচারে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। ১৫ দিন আগে এলাকার মানুষ নিজেরাই নেটপাটা অপসারণ করে দিলে মিলন ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপি নেতা ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আজহারুল ইসলাম মন্টুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা প্রচার চালায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের মাধ্যমে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে।
এছাড়া মিলন মোল্যার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে—তিনি নিজ বাড়ির সামনে থাকা একটি সুপেয় পানির প্লান্ট বন্ধ করে, প্লান্টের মোটর ব্যবহার করে নিজের মাছের ঘেরে পানি তোলেন এবং বিদ্যুৎ চুরি করে তা নিজের বাড়িতে ব্যবহার করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী আবুল কালাম আজাদ, রিজিয়া খাতুন, আনারুল ইসলাম, ইয়াসিন আরাফাত, রেবেকা খাতুন, আবু হানিফ মোল্যা প্রমুখ বলেন—মিলন মোল্যার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কয়েকটি গ্রামে জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করবে এবং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

