Nabadhara
ঢাকাবুধবার , ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তেরখাদায় ১১টি কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল অবস্থা,বন্ধ ঔষুধ সরবরাহ,দেড় লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকি

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৫ ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার তেরখাদা উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ মানুষ এখন কার্যত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। এলাকার ১৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ১১টি ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে, প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সরকারি ওষুধ সরবরাহও। ফলে
চিকিৎসাসেবার মূল ভরসা হিসেবে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নিজেই যেন ‘রোগে আক্রান্ত’।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পানতিতা, বারাসাত ও রামমাঝি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ অধিকাংশ ভবনের দেয়ালে ফাটল, ছাদের প্লাস্টার খসে পড়া, কোথাও রড বের হয়ে আছে,ভাঙা দরজা-জানালা এবং ব্যবহারের অযোগ্য শৌচাগার—সব মিলিয়ে এক করুণ চিত্র। কিছু কিছু ক্লিনিকে বিদ্যুৎ সংযোগও নেই, ফলে গরমে কর্মীরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বারাসাত কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা ময়না বেগম বলেন, “কয়েকদিন ধরে আমার মেয়ে জ্বরে ভুগছে। একটু ওষুধের আশায় এসেছিলাম, কিন্তু এখানে কিছুই নেই। আমরা গরিব মানুষ, এই ক্লিনিক ছাড়া আর কোথাও যাওয়ার সামর্থ্য নেই।”

পানতিতা কমিউনিটি ক্লিনিকে আসা মার্জিয়া সুলতানার ভাষ্য, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অনেক দূরে। বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এসেছি। কিন্তু এখানে চিকিৎসা নেওয়ার মতো পরিবেশই নেই।”

এলাকার বিভিন্ন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ২২ প্রকার প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আয়রন, জিংক, ব্যথানাশক, সর্দি-কাশির সিরাপ, গ্যাস্ট্রিক ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধসহ নানা জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী।

একাধিক সিএইচসিপি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “রোগীরা এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, গালমন্দ করেন। অথচ আমাদের হাতে কিছুই নেই। নিজেদেরও অসহায় লাগছে।”

বারাসাত ক্লিনিকের সিএইচসিপি জলি, পানতিতা ক্লিনিকের নেয়ামত হোসেন এবং রামমাঝি ক্লিনিকের সিএইচসিপি এমডি বাহারুল ইসলাম বলেন, “ভবনের যে অবস্থা, তাতে প্রতিদিন আতঙ্কে কাজ করতে হয়। কখন ছাদ খসে পড়ে, বলা যায় না। শৌচাগার ব্যবহারের অযোগ্য, বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুন্নবী তুহিন বলেন, “কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর বেশিরভাগ ভবনই অনেক পুরনো। কিছু কিছু ভবনে বসার মতো অবস্থাও নেই। ভবন সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণের জন্য তালিকা তৈরি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “গত এক বছর ধরে ওষুধ সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি, আগামী মাস থেকে কিছুটা উন্নতি হবে।”

উল্লেখ্য, তেরখাদা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ১৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। বহু বছর আগে নির্মিত এসব ভবন বর্তমানে অযত্ন ও অবহেলায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ১১টি ক্লিনিক এখন কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ ও বসবাস অনুপযোগী।

স্থানীয়দের মতে, যদি এসব ক্লিনিকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ চালু থাকে এবং ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, তাহলে গ্রামের মানুষ উপজেলা সদরে না গিয়েও প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারবেন। পাশাপাশি টিকাদান, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো আবারও সচল করা সম্ভব হবে।

সরকারের ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল— স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া মানুষের দোরগোড়ায়। কিন্তু তেরখাদার বাস্তবতা আজ সেই মহৎ উদ্যোগের করুণ চিত্র তুলে ধরছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।