রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধ
খুলনার কাজীবাছা নদী থেকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রশাসন ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। দুই মরদেহই ছিল পচনধরা। একটি ভেসে ছিল নদীতে, অন্যটি উদ্ধার করা হয় বস্তাবন্দি অবস্থায়। দুটিরই পরিচয় শনাক্ত সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ গত সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বটিয়াঘাটার তেতুলতলা এলাকায় কাজীবাছা নদীর পাড়ে একটি ভাসমান লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে নৌপুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। মৃত ব্যক্তির পরনে ছিল কালো প্যান্ট ও কলারওয়ালা গেঞ্জি। শরীর পচে যাওয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া সম্ভব হয়নি। খুলনা পিবিআই ও সিআইডি ঘটনাস্থলে গেলেও কোনো পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি।
এর পাঁচদিন আগে, একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় আরেক যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ। স্থানীয় বাসিন্দা সানজিদা খাতুন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানোর পর পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। একইভাবে, অতিরিক্ত পচনের কারণে ওই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
খুলনা নৌপুলিশ সুপার ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, “দীর্ঘসময় পানিতে থাকায় দুই মরদেহের হাতের টিস্যু নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি কাজে লাগেনি। দেশের সব থানায় মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাঠানো হয়েছে, কিন্তু কোথাও মিল পাওয়া যায়নি।” তিনি আরও জানান, বস্তাবন্দি লাশের বিষয়ে অভয়নগর থানার একটি নিখোঁজ ডায়েরি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মৃতদেহের গায়ের বর্ণনা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ওই ব্যক্তির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের হয়েছে।
স্থানীয় নাগরিক নেতা ও সুজন খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, “দেশে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। প্রশাসন অনেকক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে না। ফলে অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে। সময় এসেছে প্রশাসনের কাঠামোগত ও মানবিক সংস্কারের।”
এর আগে গত ১৪ মে খুলনার রূপসা সেতুর পশ্চিম পাড় থেকে আরও একটি অজ্ঞাত পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। একের পর এক এ ধরনের ঘটনা খুলনার নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

