সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চলনবিলে অবাধে চলছে জাল, ফাঁদ ও বিষটোপ ব্যবহার করে দেশীয় পাখি শিকার। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় বক, শালিক, চড়ুই, ডাহুক, চ্যাগা প্রভৃতি পাখি খাদ্যের সন্ধানে বিলে আসলেও একশ্রেণির শিকারিদের ফাঁদে পড়ে প্রাণ হারাচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি না থাকায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো কাজ করলেও পাখি নিধন বন্ধ করা যাচ্ছে না।
কুন্দাশন এলাকার লিটন পারভেজ জানান, ফসলের জমিতে পানি দেওয়ার সময় বের হওয়া পোকামাকড় খেতে আসা পাখিদের টার্গেট করে শিকারিরা বিষমিশ্রিত পতঙ্গ ছড়িয়ে দেয়। এগুলো খেয়ে পাখি মারা গেলে ব্লেড বা ছুরি দিয়ে জবাই করা হয়। আবার বিভিন্ন স্থানে বড় জাল টাঙিয়ে রেখে পাখিদের তাড়িয়ে তাতে আটকা ফেলে বস্তায় ভরে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভিলেজ ভিশন বাংলাদেশ এর পরিচালক শরীফ খন্দকার বলেন, “আমরা নিয়মিত পাখি শিকার বন্ধে কাজ করছি। কিন্তু প্রশাসনের শক্ত পদক্ষেপ না থাকায় শিকার বন্ধ করা যাচ্ছে না।” সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, ২০২০ সাল থেকে পাখি অবমুক্ত ও শিকার প্রতিরোধে কাজ করছেন তারা, তবে শিকারিরা ভীত নয়।
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সক্রিয় আরেক সংগঠন স্বাধীন জীবন এর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক নাসিম বলেন, “গত কয়েক বছরে আমরা প্রায় দুই হাজার শিকার করা পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছি।” একইভাবে দি বার্ডস সেফটি হাউজ এর চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস জানান, কয়েকটি সংগঠন কাজ করলেও তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতার অভাব এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়হীনতার কারণে স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার বলেন, “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব দেশীয় পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পোকামাকড় দমন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান জানান, “পাখি শিকার একটি অপরাধ। কেউ পাখি শিকার করছে এমন সংবাদ পেলে আমরা অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেব।”

