কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনটে এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রী ছাড়াই “ডাক্তার” পরিচয়ে রোগী দেখা, প্রেসক্রিপশন দেওয়া ও ফার্মেসী চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মাত্র ছয় মাস মেয়াদী প্যারামেডিকেল কোর্স শেষ করেই তিনি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।
অভিযুক্তের নাম জাহাঙ্গীর হোসাইন (৩৮)। তিনি পুনট ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের তছলিম উদ্দিন বাচ্চুর ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংক পিএলসি পুনটহাট শাখার নিচতলায় দুটি দোকানঘর ভাড়া নিয়ে একটিতে ফার্মেসী আরেকটিতে চেম্বার খুলেছেন জাহাঙ্গীর। নিয়মিত রোগী দেখে প্রতি রোগীর কাছ থেকে ৫০ টাকা ফি নেন। প্রেসক্রিপশনে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক লিখে দেন এবং ওষুধ বিক্রি করেন নিজ ফার্মেসী থেকেই।
বুধবার সকালে তার চেম্বারে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী জানান, প্রেসক্রিপশন সাদা কাগজে দেওয়ার প্রস্তাব করলেও জাহাঙ্গীর প্রেসক্রিপশন প্যাড ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানান। অথচ চেম্বারের সামনে ডিজিটাল ব্যানারে লেখা রয়েছে “পরিচালনায় চিকিৎসক”।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট রায়ে নির্দেশ দেন— এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রী ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না। কিন্তু এ নির্দেশ অমান্য করে জাহাঙ্গীর নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০২২ সাল থেকে তার হঠাৎ আর্থিক উত্থান ঘটে। গত চার বছরে তিনি প্রায় চার বিঘা তিন ফসলী জমি কিনেছেন, নির্মাণ করেছেন ইটের দোতলা ফ্ল্যাটবাড়ি এবং চলাফেরা করছেন দামি মোটরসাইকেলে। তার সম্পদের পরিমাণ এখন কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে ভুয়া চিকিৎসক জাহাঙ্গীর হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, “আমি হাইকোর্টের রায় সম্পর্কে জানি। আগে প্যাডে ডাক্তার লেখা ছিল, ভুল হয়েছে। আজকের মধ্যে সব সরিয়ে ফেলব।”
জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মো. আল মামুন বলেন, “এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রী ছাড়া ডাক্তার পদবী ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুব উল আলম বলেন, “আপনার তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি জানলাম। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

