দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সন্তানের গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে মাকে গণধর্ষণের ঘটনায় এলাকাবাসী চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সেইসাথে তারা ঘটনার সাথে জড়িত ও দোসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কায়ামারী গ্রামের সচেতন নাগরিক ও এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ এমন ঘৃণ্যতম অপরাধের সাথে যারা জড়িত তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেছেন, এমন অপরাধ যারা করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, যেন আর কেউ এমন পাশবিক ও অমানবিক ঘটনা ঘটাতে না পারে।
এদিকে সন্তানের গলায় অস্ত্র ধরে মাকে গণধর্ষণের খবরটি বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ হলে দৌলতপুরের সর্বত্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রায় সবার মুখেই খবরটি বলতে শোনা যায় ও তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের কায়ামারী গ্রামের চিহ্নিত দূবৃর্ত্ত লাবু (৩৬), তারিক (৪২) ও সুবোল (৩৫) সহ ৭/৮ জনের একটি সংগবদ্ধ সশস্ত্র দূবৃর্ত্ত প্রতিবেশী সেলিম মহলদারের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তার ছেলে রানা (২৫) ও তার ছোট ভাই রাহুল (২০) কে অস্ত্রেও মুখে মুখ, হাত-পা বেঁধে রানার স্ত্রী এক সন্তানের জননী রিতু খাতুন (১৮) কে ধর্ষণ করতে চাইলে সে বাঁধা দেয়। পরে তার ৩ বছরের শিশু সন্তানের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে গৃহবধু রিতুকে জোরপূর্বক পালাক্রমে গণধর্ষণ করে লাবু, সুবোল ও তারিক। ধর্ষণ শেষে দূবৃর্ত্তরা ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার সহ প্রায় ২ লক্ষ টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যায় এবং যাওয়ার সময় এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়।
পরে পরিবারের লোকজনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে এবং রিতুকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হওয়ার পর এমন পাশবিক ঘটনায় রিতু বাদী হয়ে এলাকার চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করেন যার নং-২৫ এবং তার শ্বশুর সেলিম মহলদার বাদী হয়ে হামলা ও লুটপাটের মামলা দায়ের করেন। পৃথক মামলা দায়েরের পর ওই রাতেই দৌলতপুর থানা পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষক লাবু, সুবোল ও তারিককে গ্রেপ্তার করে পরদিন সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) কারাগারে প্রেরণ করে। পরে রিতুকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
ধর্ষণ ও ডাকাতির বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান শেখ বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বাঁকী অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ধর্ষণকারী সশস্ত্র দূবৃর্ত্তরা একই রাতে পার্শ্ববর্তী আব্দুর রাজ্জাক কলেজ পাড়া এলাকায় মৃত জেসের মন্ডলের ছেলে জহুরুল ইসলামের বাড়িতে হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে বাড়ির লোকজনকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে ফেরার পথে সেলিম মহলদারের বাড়িতে প্রবেশ করে গৃহবধুকে গণধর্ষণ ও লুটের ঘটনা ঘটায়। এমন পাশবিক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

