রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার রূপসা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ রবিউল ইসলাম তোতা বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রূপসা ঘাটে টোল আদায়কারীদের দ্বারা লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘাট পারাপারের সময় তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে টোল আদায়কারীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, প্রতিদিনকার মতো ঘাট পার হতে গেলে টোল আদায়কারী এক ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। প্রতিবাদ জানালে একপর্যায়ে তাঁকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
এ ঘটনায় রূপসা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বলেন, রূপসা ঘাটে সাধারণ মানুষ এবং সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত টোল আদায়কারীদের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি, যার ফলে এমন ঘটনা ঘটছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ রূপসা ঘাট ব্যবহার করে চলাচল করে। সেখানে টোল আদায়কারীদের লাগামহীন আচরণে সাধারণ মানুষই শুধু নয়, সাংবাদিকরাও এখন নিরাপদ নন। আজকের ঘটনার ন্যায্য বিচার না হলে সাংবাদিক সমাজ আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।”
বিবৃতি প্রদানকারীদের মধ্যে ছিলেন—প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা এস এম আবু সাঈদ, উপদেষ্টা মোঃ আনোয়ার হোসেন, সামসুজ্জামান শাহীন, সভাপতি তরিকুল ইসলাম ডালিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি কৃষ্ণ গোপাল সেন, সহ-সভাপতি খান মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক এম এ আজিম, সহ-সম্পাদক শাহরিয়ার হোসেন মানিক, কোষাধ্যক্ষ আখতার খানসহ আরও অনেকে।
এর আগে একই ঘাট এলাকায় রূপসা প্রেসক্লাবের আরেক সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ভোরের ডাক-এর খুলনা প্রতিনিধি এস এম মাহবুবুর রহমান ঘাটের ম্যানেজার জাহিদের হুমকির শিকার হন। সে সময়ও সাংবাদিক সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
রূপসা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ স্থানীয় প্রশাসন ও ঘাট ব্যবস্থাপনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন টোল আদায় ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

