গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জমিজমার বিরোধে মোতালেব মন্ডল (৩৫) নামের এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্হানীয়রা তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কিন্তু অবস্হার অবনতি হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহত মোতালেব গোয়ালন্দ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কুমড়াকান্দি গ্রামের মৃত সেকেন আলী মন্ডলের ছেলে।
শুক্রবার সকাল সারে ১০ টার দিকে কুমড়াকান্দি হাবির দোকানের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী ব্যাক্তির নাম মোঃ টিটু মন্ডল (৪৪)। সে একই গ্রামের মোঃ হাসান মন্ডলের ছেলে বলে স্হানীয়রা জানান। খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্হানীয় কয়েকজন জানান, প্রতিবেশী মাছেম মন্ডলের সাথে বসতবাড়ির জমিজমা নিয়ে মোতালেব মন্ডলের বড় ভাই মোহন মন্ডলের বিবাদ চলছিল। শুক্রবার সকাল সারে ১০ টার দিকে হাবির দোকানের সামনে সেই বিষয় নিয়ে মোহন মন্ডলের সাথে তর্ক বিতর্ক করছিল মাছেম মন্ডলের ভাতিজা টিটু। এক পর্যায়ে টিটু তাদের বাড়ি হতে লোহার রড এনে মোহন মন্ডলকে মারতে উদ্যোত হয়। এ সময় মোহনের ছোট ভাই মোতালেবের টিটুকে আটকানোর চেষ্টা করে। এতে টিটু ক্ষিপ্ত হয়ে মোতালেবকেই ওই রড দিয়ে বেদম পেটায়। এতে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্হানে মারাত্মক জখম হলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।
পরে স্হানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। উদ্ধারকারীরা জানান, হামলায় মোতালেবের প্রচুর রক্তক্ষরন হয়েছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন।
এ বিষয়ে আহত মোতালেব মন্ডলের খালাতো ভাই সার্ভেয়ার জারাল উদ্দিন বলেন, পরিবারের সবাই হাসপাতালে রোগী নিয়ে দৌড়াদৌড়িতে আছি। একটু ফ্রি হলেই এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।
তবে এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত টিটু অথবা তার পরিবারের কোন সদস্যের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয় গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম জানান, জমিজমার বিরোধে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত ব্যাক্তি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

