রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ও লেখাকে কেন্দ্র করে খুলনার তেরখাদা উপজেলায় চেয়ারম্যানের স্ত্রীর নামে ‘গণধর্ষণের পর হত্যা’র চাঞ্চল্যকর দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা একে সম্পূর্ণ গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ছড়িয়ে পড়া পোস্টে দাবি করা হয়, তেরখাদার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাব্বেল মোল্লার স্ত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলেও প্রচার করা হয়।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তেরখাদা উপজেলায় ‘রাব্বেল মোল্লা’ নামে কোনো বর্তমান বা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নেই। একই সঙ্গে এমন কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, “ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিও ও লেখাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের কোনো ঘটনা তেরখাদায় ঘটেনি। এটি পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো গুজব।” তিনি আরও জানান, গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু বলেন, “এ ধরনের ভুয়া ভিডিও ও মিথ্যা তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও এলাকার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।”
সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এফএম ওহিদুজ্জামান বলেন, “তেরখাদায় রাব্বেল মোল্লা নামে কোনো ইউপি চেয়ারম্যান নেই—বর্তমানে নেই, অতীতেও ছিল না। একটি কুচক্রী মহল ফেসবুক ব্যবহার করে মিথ্যা ভিডিও ও তথ্য ছড়িয়ে প্রশাসন ও এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।”
বারাসাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে. এম. আলমগীর হোসেন বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওটি বাস্তব ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়। এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে বলে মনে হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের সংবেদনশীল ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তারা দ্রুত গুজবের উৎস শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো যেকোনো তথ্য যাচাই ছাড়া শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে; অন্যথায় এ ধরনের অপপ্রচার সমাজে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

