স্টাফ রিপোর্টার, নড়াইল
নড়াইলে মাত্র দুই মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে দিনমজুর মিঠুন বিশ্বাসের বসতঘর। ঝড়ের সময় দুই সন্তানকে নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় তার স্ত্রী মৌহা বিশ্বাসকে। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি।
ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের তালেশ্বর গ্রামে। শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে বাড়ির পাশের একটি রেন্টি গাছ ভেঙে মিঠুনের টিনের ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং টিনের চাল উড়ে যায়।
রোববার (১০ মে) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের টিন কুড়িয়ে জড়ো করছেন মিঠুন বিশ্বাস ও তার স্ত্রী মৌহা বিশ্বাস। স্থানীয় লোকজন গাছ কেটে সরিয়ে দিয়েছেন। অনেকে এগিয়ে এসে উড়ে যাওয়া টিনও তুলে দিচ্ছেন।
মৌহা বিশ্বাস বলেন, “দুই সন্তান নিয়ে এখন কোথায় যাব বুঝতে পারছি না। ঘর বানানোর মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মাঠে কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাই। এক ঝড়েই সব শেষ হয়ে গেল।”
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার কাজী বলেন, “মিঠুন ছোটবেলা থেকেই কষ্ট করে বড় হয়েছে। তার বাবা অনেক আগে পরিবার ছেড়ে চলে যান। অভাব কখনোই তার পিছু ছাড়েনি। ঝড়ে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নেওয়া তার পক্ষে খুব কঠিন।”
মিঠুন বিশ্বাস বলেন, “সন্ধ্যায় বারান্দায় বসেছিলাম। হঠাৎ ঝড় এসে ঘরের চাল উড়িয়ে নেয়। তারপর গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে। অসুস্থ মা, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এখন কোথায় থাকবো জানি না। সরকার যদি একটু সহযোগিতা করত, তাহলে নতুন করে ঘর তুলতে পারতাম।”
এ বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি.এম. রাহসিন কবীর সোমবার (১১ মে) সকালে বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আবেদন করলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে।”

