Nabadhara
ঢাকাসোমবার , ১৮ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দৌলতপুরে ‘পীর’ হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার ভয়ে স্কুলছাত্রের গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 
মে ১৮, ২০২৬ ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার ভয়ে লাম (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শনিবার দুপুরে ঢাকার আশুলিয়ায় তার খালার বাসায় সে আত্মহত্যা করে। নিহত লাম দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর হঠাৎপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে এবং পিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত স্কুলছাত্র লামের বড়ভাই আলিফকে ২৬ এপ্রিল রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে দৌলতপুর থানা পুলিশ। বড়ভাই গ্রেপ্তার হওয়ার পর মা বাবার বকুনি খেয়ে এবং হত্যা মামলার আসামি হওয়ার ভয়ে লাম ঢাকার আশুলিয়া তার খালা সীমা ও খালু কোরবান আলীর বাড়িতে পালিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানেও খালা খালু তাকে বকুনি দিলে আত্মভয়ে লাম শনিবার দুপুরে খালুর বাড়িতে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে আজ রোববার দুপুরে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করলে তার মরদেহ নিজ গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ১১টায় জানাজা শেষে ফিলিপনগর-ইসলামপুর কবরস্থানে স্কুলছাত্র লামের দাফন সম্পন্ন করা হয়। দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় পীর শামীম জাহাঙ্গীর নিহত হয়। ঘটনার সময় লাম ও তার বড়ভাই আলিফ দেখতে গেলে তা ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা বিশ্লেষন করে পুলিশ আলিফকে গ্রেপ্তার করে। আলিফ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বাবা মা লামকে বকা-ঝকা করে খালার বাসায় পাঠিয়ে দেয়।

এরআগে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। এসময় কিলার রাজিব মিস্ত্রিসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে তাকে দোতলা থেকে নীচে ছুড়ে ফেলে। এরপর হামলাকারীরা সংগবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ্বালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের তান্ডলীলা চালায়।

হত্যাকান্ডের ৩দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়।

এজাহার নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছে ইসলামী ছাত্র শিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য খাজা আহম্মেদ (৩৬)। তাকে ১নম্বর প্রধান আসামি করা হয়। মামলার অপর ৩ আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮), ফিলিপনগর এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে জামায়াত সমর্থক রাজিব মিস্ত্রি (৩২) এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ফিলিপনগর ইসলামপুর গ্রামের সিহাব উদ্দিন ওরফে সাফি (৪৫)। এরমধ্যে কিলার রাজিব মিস্ত্রি র‌্যাবের অভিযানে রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।