রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
খুলনা-৪ (তেরখাদা–রূপসা–দিঘলিয়া) আসনে এবারের নির্বাচনী মাঠে বৈধ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন। তারা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধি।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, আয়-সম্পদ ও মামলা-মোকদ্দমার দিক থেকে চার প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য।
বিএনপি’র তথ্যবিষয়ক সম্পাদক এস কে আজিজুল বারী হেলাল শিক্ষাগত যোগ্যতায় বিএসসি (অনার্স) পাশ। হলফনামা অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৫৫টি মামলায় তিনি খালাস, অব্যাহতি কিংবা মামলা প্রত্যাহারের সুবিধা পেয়েছেন।
হেলালের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ২৯ হাজার ৭২৬ টাকা এবং তার মোট অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৫৩ লাখ ৯৩ হাজার ৮৮৯ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ ২৫ লাখ ৩৯ হাজার ৩৬২ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫২৭ টাকা, ব্যাংক এফডিআর ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র ২ লাখ টাকা। তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি ২৪ হাজার ৪৫৯ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন, যা চার প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহম্মেদ সেখ কামিল ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে থাকা একটি মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। হলফনামা অনুযায়ী, ইউনুস আহম্মেদের বার্ষিক আয় ৪ লাখ ১৮ হাজার ৭৯২ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ২০ লাখ ৬৭ হাজার ১৯১ টাকা, যার মধ্যে নগদ অর্থ ও ব্যবসার মূলধন ২৩ লাখ ৮ হাজার ৯৮৯ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৮৫ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এছাড়া তার নামে ২৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৮ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ। নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি ৫ হাজার টাকা আয়কর দিয়েছেন।
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এসএম সাখাওয়াত হোসাইন দাওরায়ে হাদিস (এমএ সমমান) পাশ এবং পেশায় চাকরিজীবী। তার বিরুদ্ধে থাকা ১০টি মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৪০ হাজার ২১ টাকা। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার মোট অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২৫ লাখ ৬৬ হাজার ১৮ টাকা, যার মধ্যে নগদ অর্থ ২৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭৮৩ টাকা, ব্যাংকে জমা ১ হাজার ২৩৫ টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য ১ লাখ টাকা, আসবাবপত্র ১ লাখ টাকা এবং অন্যান্য খাতে ৫ লাখ টাকা। তিনি কোনো স্থাবর সম্পদের তথ্য দেননি। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি মাত্র ৩ টাকা আয়কর প্রদানের কথা উল্লেখ করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর খুলনা জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মো. কবিরুল ইসলাম কামিল পাশ এবং পেশায় শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৭টি মামলায় তিনি খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৬৬৮ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৫২ হাজার ৮৯৮ টাকা এবং স্থাবর সম্পদের মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি ৩ হাজার টাকা আয়কর দিয়েছেন।

