তাপস কুমার মজুমদার,স্টাফ রিপোর্টার,ভোলা
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র-এর ১৩৮তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী ধর্মীয় ও মানবিক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার শুরু হওয়া এ আয়োজনে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোলকপুর সৎসঙ্গ মন্দির প্রাঙ্গণ।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার অনুসারী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্তরা প্রতি বছর একই সময়ে আবির্ভাব তিথি উদ্যাপন করে থাকেন। সেই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিনামূল্যের চিকিৎসা শিবির। “সৎসঙ্গ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন”-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে এক হাজারের বেশি অসচ্ছল মানুষকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়। স্থানীয় সৎসঙ্গ কর্তৃপক্ষ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল।
দুই দিনের কর্মসূচিতে প্রার্থনা, ধর্মীয় পদাবলি ও কীর্তন, মাতৃসম্মেলন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শোভাযাত্রা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণের বার্তা সামনে রেখে অনুষ্ঠিত ধর্মসভায় অংশগ্রহণকারীরা আত্মিক চর্চা ও নৈতিক মূল্যবোধ জোরদারের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ভক্তরা বলেন, বর্তমান সময়ের অস্থিরতার মধ্যে মানবিকতা, ন্যায় ও সেবার আদর্শ ধারণ করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তাদের মতে, এমন আয়োজন পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে এ তিথি উপলক্ষে ভোলায় অনুষ্ঠান হয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও ধর্মীয় চর্চার পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
প্রথম দিনে প্রায় চার হাজার ভক্ত-পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। শেষ দিনে মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে দুই দিনের এ আয়োজনের সমাপ্তি হবে।

