শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মাপুকুর ইউনিয়নের কুটিকাটা ও চাউল খোলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহযোগিতায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রকাশ্যে বালু তোলা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
স্বরেজমিনে দেখা যায়, চাউল খোলা এলাকায় অনিল বাবুর প্রায় এক বিঘা জমি ভরাটের কাজে ব্যবহারের জন্য একই এলাকার আব্দুর রহমানের মাছ চাষের ঘের থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, পাশ্ববর্তী আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের দিকলারাইট গ্রামের সেকেন্দার হোসেন ফুটপ্রতি ৬ টাকা চুক্তিতে এ কাজ পরিচালনা করছেন।
এছাড়া কুটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন শ্মশানঘাট ভরাটের কথা বলে রফিকুল ইসলামের মৎস্য ঘের থেকেও বালু উত্তোলনের ঘটনা দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, আশাশুনী উপজেলার কালিমাখালী এলাকার শামিম হোসেন ফুটপ্রতি ৫ টাকা চুক্তিতে বালু তুলছেন।
গ্রামবাসী মফিজুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, পদ্মাপুকুর ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর মাধ্যমে ফুটপ্রতি ১ টাকা করে নায়েবকে দেওয়া হয়, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে এ কার্যক্রম চলছে।
ঘটনাস্থলে সংবাদকর্মীরা গেলে তহশিলদারের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেওয়া কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর হোসেন বাবু সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় অভিযুক্ত সেকেন্দার হোসেনের ছেলে মুনাইয়িম তাকে বিকেলে দেখা করার কথা বলেন। পরে বিষয়টি এড়িয়ে যান সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে জমিধস, কৃষিজমির ক্ষতি এবং মাছ ও চিংড়ির প্রজনন ব্যাহত হতে পারে। পরিবেশবাদী সংগঠন লিডার্স-এর পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল বলেন, “মাটির নিচ থেকে বালু উত্তোলনে বালুর স্তর ফাঁকা হয়ে গেলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে এবং পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়।”
অভিযোগের বিষয়ে পদ্মাপুকুর তহশিলদার এ টি এম আয়নুল হক মাসোহারা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “ওখানে কাজ চলছে—এ বিষয়ে আমি অবগত নই।”
এদিকে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদ হোসাইন বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

