হুমায়ন কবির মিরাজ, বেনাপোল
দেশের পেঁয়াজের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ভারত থেকে আমদানির অনুমতি বন্ধ থাকায় গত দুই সপ্তাহে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগে পড়েছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর ভারত থেকে পেঁয়াজবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে। সেদিন মাত্র ৬০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। এর আগে ১৫ থেকে ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ছয়টি চালানে মোট ১৩টি ট্রাকের মাধ্যমে ৩৯০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। এরপর নতুন কোনো অনুমতি না থাকায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি কার্যত বন্ধ রয়েছে।
আমদানিকারকরা জানান, টানা তিন মাস আমদানি বন্ধ থাকার পর গত ৭ ডিসেম্বর সীমিত পরিসরে অনুমতি দেওয়া হলে বাজারে সরবরাহ বাড়ে এবং পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় নেমে আসে। তবে সম্প্রতি আবারও অনুমতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমদানি থেমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বেনাপোলের পেঁয়াজ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম রয়েল বলেন, “ভারতীয় পেঁয়াজ দেশের বাজারের বড় একটি অংশের চাহিদা পূরণ করে। আমদানি বন্ধ থাকলে বাজার স্বাভাবিক রাখা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে বন্দরে কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা দাম বেড়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে রোজার আগে পেঁয়াজের দাম ৮০ টাকারও বেশি হতে পারে।”
তিনি আরও জানান, নিয়মিত আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আমদানির অনুমতি পাওয়া যায়নি। আনুষ্ঠানিক কোনো প্রজ্ঞাপন না থাকলেও মৌখিকভাবে আমদানি সাময়িক বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ বলেন, “বর্তমানে নতুন কোনো পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি ইস্যু করা হয়নি। তবে আগে দেওয়া অনুমতির বিপরীতে চলতি মাসের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি করা যাবে।”
রমজান মাসকে সামনে রেখে দ্রুত আমদানির বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

