নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের টঙ্গীতে ত্রিভুজ প্রেমের জেরে বাবা ও ছোট ভাইকে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান (২৮) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ) মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, পারিবারিক বিরোধ ও ত্রিভুজ প্রেমের জেরে প্রতিশোধ নিতে সোহান একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে গাজীপুর মহানগর হাকিম জুবায়ের রশিদের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহান। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
নিহতরা হলেন—সোহেল রানা (৫০) ও তার ছোট ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৮)। সাকিব উত্তরার আনোয়ারা মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত রবিবার (২৬ এপ্রিল) ভোরে টঙ্গীর পূর্ব থানার বনমালা এলাকায় নিজ ঘর থেকে সাকিবের লাশ এবং পাশের রেললাইন থেকে তার বাবা সোহেল রানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর সন্দেহজনক আচরণের কারণে বড় ছেলে সোহানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সোহানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, এক খালাতো বোনকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই তরুণীর সঙ্গে সোহানের বিয়ে ঠিক হলেও ছোট ভাই সাকিবের সঙ্গে তার গোপন সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই ভাইয়ের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঘটনার রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে সোহান ছোট ভাই সাকিবের ওপর হামলা চালায়। তার মুখ চেপে ধরে হাত-পা বেঁধে ধারালো ব্লেড দিয়ে রগ কেটে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবে দেখানোর চেষ্টা করে।
এসময় পাশের কক্ষে থাকা বাবা সোহেল রানা বিষয়টি দেখে ফেললে সোহান তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে বনমালা রেললাইনের পাশে নিয়ে যায় এবং সেখানে ফেলে রেখে আসে। পরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে দুইজন ব্যক্তিকে একজন দুর্বল মানুষকে ধরে রেললাইনের দিকে নিয়ে যেতে দেখা গেছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিহত সোহেল রানার বোন বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানায়, ঘটনাটির আরও তদন্ত চলছে এবং জড়িত অন্যদের শনাক্তে কাজ করা হচ্ছে।

