নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর তিন উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় বজ্রাঘাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সুবর্ণচরে ‘বজ্রপাতে মৃত্যু’ বলে প্রচার করা এক মাদরাসা ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে—পুলিশ বলছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
নিহতরা হলেন—কবিরহাট উপজেলার মো. আয়মান (৯) ও হাতিয়া উপজেলার আরাফাত হোসেন (২২)। এছাড়া সুবর্ণচর উপজেলার তানজিনা আক্তার (১৭) নামে এক মাদরাসা ছাত্রীর মৃত্যু আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নে বাড়ির আঙিনায় খেলার সময় বজ্রাঘাতে আয়মানের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
একইদিন দুপুরে হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নে মাঠ থেকে বাদাম তুলে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে আরাফাত হোসেন নিহত হন। পরিবারের সদস্যদের সামনে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, সুবর্ণচর উপজেলার চর আমানউল্যাহ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে তানজিনা আক্তারের মৃত্যুকে প্রথমে বজ্রপাতে মৃত্যু বলে দাবি করে পরিবার। মঙ্গলবার সকালে তারা জানান, পুকুরঘাটে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়েছে।
তবে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ বজ্রপাতে মৃত্যুর কোনো আলামত পায়নি। পরে তদন্তে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাতে নিজ বসতঘরের ভেতরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তানজিনা।
নিহত তানজিনা ওই এলাকার শেখ মোজাম সেন্টুর মেয়ে এবং স্থানীয় চরবাটা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
সুবর্ণচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে বজ্রপাতে মৃত্যুর কথা জানানো হলেও ঘটনাস্থলে গিয়ে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফনের জন্য ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। পরে তদন্তে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।”
তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হঠাৎ বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

